১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রী না থাকায় বক্তা পাওয়া যায় না: সংসদে চিফ হুইপ

রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় তালিকায় নাম থাকা সংসদ সদস্য বক্তব্য দিতে না চাইলে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী ‘সংসদের প্রাণ’; তিনি থাকলে সবাই বক্তব্য ‘শোনাতে চান’।

প্রধানমন্ত্রী না থাকায় বক্তা পাওয়া যায় না: সংসদে চিফ হুইপ
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Apr 2026, 08:44 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:30 PM

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত না থাকায় জাতীয় সংসদে অনেক সংসদ সদস্য ‘বক্তব্য দিতে চান না’ বলে মন্তব্য করেছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বক্তা না পাওয়া নিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় এ কথা বলেন তিনি।

মাগরিবের বিরতির আগে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিতে নেত্রকোণা ৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের নাম ঘোষণা করেন স্পিকার। তাকে ১০ মিনিট সময়ও দেওয়া হয়।

তখন লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আমি তো আজকে বক্তৃতার জন্য সময় চাইনি।”

এরপর চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিকে উদ্দেশ করে স্পিকার বলেন, “মাননীয় চিফ, এই যে তালিকা দেন, প্রথমে ছাপানো, তারপরে হাতে লেখা, কিন্তু বক্তা তো পাওয়া যায় না।”

জবাবে চিফ হুইপ বলেন, “যাদের নাম তালিকায় দেওয়া হয়েছে, তাদের সঙ্গে কমবেশি কথা হয়েছে। হুইপরা সবার সঙ্গে কথা বলেই তালিকা দিয়েছেন।”

খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোরে থাকার বিষয়টি তুলে ধরে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, “আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও সংসদে উপস্থিত নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদের প্রাণ। অ্যাকচুয়ালি উনি থাকলে সবাই তাকে বক্তব্য শোনাতে চায়। এ জন্য আমরা অনেক বক্তাই পাই না।”

বাবরের নাম তালিকায় থাকার প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, তার ধারণা, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু হয়ত বাবরের সঙ্গে কথা বলেছেন; কথা বলেই নাম দেওয়া হয়েছে।

এরপর সংসদ সদস্যদের বক্তব্য দিতে অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “মাননীয় সদস্যবৃন্দ যারা আছেন, তারা যদি বক্তব্য রাখেন, আমরা চেষ্টা করব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য, যাতে তিনি শুনতে পারেন যে আপনারা কী বলেছেন।”

পরে স্পিকার লুৎফুজ্জামান বাবরকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি বক্তব্য দিতে চান কি না।

জবাবে বাবর বলেন, “আমি বলতে চাচ্ছি না। আর এই কথাটা সঠিক না, মাননীয় হুইপ জনাব নুরুদ্দিন অপুর সাথে এ ব্যাপারে কোনো কথাই হয় নাই।”

এরপর স্পিকার বলেন, বাবরকে পরে সুযোগ দেওয়া হবে।

মন্ত্রীদেরও সংসদে আসার অনুরোধ

বক্তা না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পর মন্ত্রীদের উপস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্পিকার।

চিফ হুইপকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “প্রথম সারিতে আমি মাত্র তিনজন মন্ত্রী দেখতে পাচ্ছি। অনেক সদস্য তাদের এলাকার কথা বলেন, এগুলো মন্ত্রীদের শোনা প্রয়োজন। আপনি আমাদের পক্ষ থেকে মন্ত্রীদেরকে অনুরোধ করবেন, তারা যেন সংসদে এসে মাননীয় সদস্যদের কথাবার্তা শোনেন।”

জবাবে চিফ হুইপ বলেন, অনুপস্থিত মন্ত্রীদের কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে আছেন, কেউ রাষ্ট্রীয় কাজে আছেন।

তিনি বলেন, “দ্বিতীয় সারিতে, তৃতীয় সারিতে, সব সারিতে সকল মন্ত্রীরা কমবেশি উপস্থিত আছেন। প্রায় ৩০ জনের মত আছেন।”

চিফ হুইপ বলেন, স্পিকারের বক্তব্য মন্ত্রীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। উপস্থিত মন্ত্রীরা সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

পরে স্পিকার বলেন, অধিকাংশ সংসদ সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও যোগাযোগ মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে এলাকার রাস্তাঘাট ও হাসপাতালের বেহাল অবস্থার কথা বলেন।

“সংসদের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সংসদ অধিবেশনে অংশ নেওয়অ। এর চাইতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নাই।”