১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দুজনই ছিলেন চাকরির চেষ্টায়, রেডি মিক্সের ট্রাক কেড়ে নিল প্রাণ

আশফাকের বাইকে আরোহী হয়েছিলেন সম্পদ; বনানীতে একটি কংক্রিট রেডি-মিক্সের ট্রাক চাপায় প্রাণ যায় দুই তরুণের।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 May 2025, 12:25 AM

Updated : 26 Aug 2026, 12:47 PM

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) থেকে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশলে (ইইই) বিএসসি করে চাকরির চেষ্টায় ছিলেন আশফাকুর রহমান আসিফ। পাশাপাশি ঢাকায় বাইকে রাইড শেয়ারিং করতেন। সেই রাইডশেয়ারিংই কাল হল ২৪ বছর বয়সী আশফাকের। 

আরোহী নিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার পথে রোববার সকাল ৯টার দিকে ঢাকার বনানীতে একটি কংক্রিট রেডি-মিক্সের ট্রাক চাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় এই তরুণের। 

আশফাকের বাইকের আরোহী ছিলেন আসিফ মাহমুদ সম্পদ; ২১ বছর বয়সী এই তরুণও চট্টগ্রাম মেরিন অ্যাকাডেমিতে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির চেষ্টা করছিলেন।

সম্পদের বাবা ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে টঙ্গীর হাই কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখান থেকে দুপুরের খাবার আনতে তেজগাঁওয়ে খালার বাসায় যাওয়ার পথে ওই দুর্ঘটনায় পড়ে সম্পদেরও প্রাণ যায়।

ঘটনাস্থলে দুই বাইক আরোহীর মৃত্যুর ঘটনায় রেডি মিক্সের ট্রাক চালক নুরু মিয়া এবং তার সহকারী রুবেল ইসলামকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছেন বনানী থানার ওসি রাসেল সরোয়ার।

তিনি বলেন, “ঘটনার সময় মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন আশফাক, সম্পদ পেছনে বসা ছিলেন। ময়নাতদন্ত শেষে তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বিসিক সড়ক কুমারপাড়ার মো. আলম ও নার্গিস আক্তারের সন্তান আশফাক ঢাকায় থাকতেন তেজগাঁওয়ের শাহীনবাগ এলাকায় থাকতেন। এক ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়।

আর সম্পদ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার চখলপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ও আলপনা খাতুনের সন্তান। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়।

সম্পদের খালাতো ভাই কাজী সোহাগ হোসেন বলেন, “সম্পদের বাবা শহিদুল ইসলাম ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ায় কয়েকদিন আগে পরিবারের লোকজন তাকে টঙ্গী হাই কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ব্রেন টিউমারের অপারেশন হয়। ওই হাসপাতালেই ছিলেন সম্পদের মা ও ছোট বোন। সম্পদও হাসপাতাল থেকে সকালে বাইকে করে তেজগাঁওয়ে খালার বাসায় যাচ্ছিল দুপুরের খাবার আনতে।”

আশফাকের বন্ধু তালহা জোয়ার্দার বলেন, “আশফাক তেজগাঁওয়ের শাহিনবাগ এলাকায় মেসে থেকে বিভিন্ন জায়গায় চাকরির চেষ্টা করছিল। বিভিন্ন জায়গায় চাকরির জন্য সে সিভি দিয়েছে, অনেক জায়গায় ইন্টারভিউ দিয়েছিল। আর এমনিতে বাইকে রাইডশেয়ার করত।”