১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চুরির অভিযোগে নারীকে বেঁধে পানি ঢেলে নির্যাতন, আটক ৫

ঢাকার একটি আদালত তাদের সাত দিনের জেল দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Jan 2026, 09:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:30 PM

রাজধানীর নদ্দায় এক নারীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গায়ে পানি ঢেলে নির্যাতনের একটি ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটকের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।

রোববার ঢাকার একটি আদালত তাদের সাত দিনের জেল দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে।

শনিবার মধ্যরাতে নদ্দার মোড়ল বাজারে মারকাযুত তালীম আল-ইসলামী মাদ্রাসা থেকে তাদেরকে আটকের কথা বলেছেন গুলশান থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসান।

তিনি বলেন, ঘটনাটি শুক্রবার সকালের। শনিবার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে ‘দ্রুততার সঙ্গেই’ তারা ‘স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রয়োজনীয়’ ব্যবস্থা নিয়েছেন।

ওসি বলেন, পরে ভুক্তভোগী ওই নারীকে খুঁজে না পাওয়ায় রোববার আটকদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত সাত দিনের জেল দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে।

ফেইসবুকে শনিবার ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শীতের পোশাক পরা এক নারীকে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। আর তার গায়ে ছোট বালতি ও মগ দিয়ে পানি ঢালছিলেন দুইজন। কয়েকজনের জটলার মধ্যে একজন মোবাইলে ভিডিও করছিলেন, কেউ হাসাহাসি করছিলেন।

এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে শনিবার রাতেই ভিডিওর স্থানটি শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ।

আটকদের বরাতে ওসি রাকিবুল বলেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার দিকে মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থী ওই নারীকে চুরি করতে দেখে ফেলে। পরে তারা হাতেনাতে নারীকে ধরে পুলিশে খবর না দিয়ে শাস্তি হিসেবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

তাদেরই কেউ ভিডিওটি ফেইসবুকে পোস্ট করেন, যেটি পরে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

ওসি বলেন, “আমরা সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে দেখেছি, ওই নারী খুব সকালে ওই মাদ্রাসায় প্রবেশ করেন। আমাদের মনে হয়েছে, তিনি ভবঘুরে টাইপের। ধরা পড়ার পর ওই নারী ছেলেকে ভর্তি করাতে গেছেনসহ নানান অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন।”

ওই নারীকে এলাকার কেউ চিনতে পারেননি, আশেপাশের এলাকায় খোঁজ করেও ওই নারীর সন্ধান পাননি পুলিশ।

ঘটনার সময় মাদ্রাসার প্রধান কক্সবাজারের একটি মাহফিলে ছিলেন জানিয়ে ওসি বলেন, “ভিডিও দেখে শনাক্ত করে আমরা পাঁচজনকে ধরে নিয়ে আসি। তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে। এদিকে ভুক্তিভোগী নারীকে খুঁজে না পেলেও আমরা সামাজিক সচেতনতার অংশ হিসেবে আটকদের আদালতে পাঠিয়ে দেই।”