১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মিরপুরের আলীম স্কুল: মারধরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দুই সহকর্মীর

“আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি ঘটনার সত্যতা জানতে,” বলছেন ওসি হাফিজুর।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2026, 05:31 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:58 PM

ঢাকার মিরপুরে আলীম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের ‘পদত্যাগী’ এক শিক্ষক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মারধর করে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সেখানকার প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম।

যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই কিরণময় দত্ত পাল্টা অভিযোগে বলছেন, তাকে মারধর করে একটি কাগজে সই করিয়েছেন প্রধান শিক্ষকের লোকজন।

সোমবার মারধরের ‘শিকার হওয়ার’ পর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছেন দাবি করে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলছেন, তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। নিরাপত্তহীনতার কারণে আর স্কুলে যাচ্ছেন না।

পীরেরবাগের এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদ্য ‘পদত্যাগকারী’ শিক্ষক কিরণময় দত্ত তার দলবল নিয়ে স্কুলে ঢুকে তাকে টেনে হিঁচড়ে বারান্দায় এনে মারধর করে। 

হামলাকারীরা তাকে পদত্যাগে বাধ্য করার জন্য চেষ্টা চালায় বলেও অভিযোগ শফিকুলের।

তিনি বলেন, পরে স্কুল কর্তৃপক্ষের কয়েকজন থানায় ফোন করলে ওসি এসে তাকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর তার কক্ষে হামলাকারীরা তালা ঝুলিয়ে দেয়।

এখন আতঙ্কের মধ্যে আছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ভয়ে এখন আর স্কুলে যাচ্ছি না।”

প্রধান শিক্ষকের লিখিত অভিযোগে শিক্ষক কিরণময় দত্ত গত ৫ জুলাই ‘স্বেচ্ছায় পদত্যাগ’ করেছেন বলে দাবি করা হয়। তবে তা অস্বীকার করেন কিরণময়।

হাসপাতালে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম

হাসপাতালে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাকে মারধর করে জোর করে একটি কাগজে স্বাক্ষর করিয়েছে প্রধান শিক্ষকের লোকজন। জোর করে স্বাক্ষর করার বিষয়টি আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি।”

প্রধান শিক্ষককে মারধর এবং স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ওই সময় তিনি স্কুলে ছিলেন না।

“ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ষড়যন্ত্রমূলক।”

প্রধান শিক্ষকের অভিযোগের বিষয়ে মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে মারধরের কোনো তথ্য পাইনি। তার পরও আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি ঘটনার সত্যতা জানতে। এরই মধ্যে আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছি।”