Published : 25 Aug 2026, 11:26 PM
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে ১৫ দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ সংলগ্ন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে মঙ্গলবার রাতে তিনি এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, “ঈদে মিলাদুন্নবী সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত সময়। আল্লাহ বলেন, রাসুলে করিম (সা.) হলেন ‘উসওয়াতুন হাসানাহ’ অর্থাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। আজকের বিশ্বে হিংসা, সংঘাত, অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য, উগ্রতা, মিথ্যা ও নৈতিক অবক্ষয়ের যে বিস্তার ঘটছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।
‘‘ তার বিদায় হজের ভাষণে মানবমর্যাদা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক অধিকারের যে মহান শিক্ষা উচ্চারিত হয়েছিল, তা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।”
বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল ঐতিহ্যের দেশ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। মহানবী (সা.) অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সমন্বয়ে যে সমাজব্যবস্থা, পারস্পরিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ অবস্থানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, আমাদের জাতীয় জীবনেও শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তা অনুসরণীয়।
“সেই দৃষ্টান্তকে পাথেয় করেই আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ধর্মপ্রাণ মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবেন। সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপন করবেন এবং ন্যায়বিচার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও পারস্পরিক সৌহার্দ হবে রাষ্ট্র ও সমাজের ভিত্তি।”
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশবাসী এবং বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) সারা বিশ্বের মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত সময়। এই মহতী ও পবিত্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে আমি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতি জানাই অগণিত সালাম ও দরুদ । ইসলামের সকল নবী ও রাসূল, নবী (সা.) এর পরিবার-পরিজন, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈন, সকল মুমিন-মুসলমানের রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছি। ”
বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ কোনো জাতিকে শক্তিশালী করে না মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “অতীতের কর্তৃত্ববাদ, ফ্যাসিবাদ ও অন্যায় যেন আর কখনো ফিরে না আসে, সে জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে অনুসরণ করে, এবং ধর্মের শান্তি, ন্যায় ও সম্প্রীতির মর্মবাণীকে হৃদয়ে ধারণ করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও ইসলামী সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সংবিধানের প্রস্তাবনায় বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযোজন করেন। তিনি ৪টি বিভাগীয় শহরে ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করেন। তার শাসনামলে ইমামদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের ধর্মীয় দায়িত্বের পাশাপাশি সমাজকল্যাণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার কার্যক্রমও শুরু হয়। এজন্য প্রতিষ্ঠা করা হয় ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি।
‘‘পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চালু করেন এবং ২০০১ সালে ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে মসজিদ, ইমাম, ধর্মীয় শিক্ষা এবং সমাজে ইসলামী নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার পরিধি সম্প্রসারিত হয়েছে।”
তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার ধর্মীয় নেতাদের মর্যাদা বৃদ্ধি, তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রতিবদ্ধ। ইতোমধ্যে ইমাম, মুয়াজ্জিম ও খাদেম সাহেবদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে সেবাদানকারীদেরও সম্মানী ভাতা প্রদানের কাজ শুরু হয়েছে।
‘‘আমি আশা করি, ২০৩০ সালের আগে প্রতিশ্রুতি অনুসারে দেশের সকল মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপসানালয় মাসিক সম্মানী ভাতার আওতায় আসবে।”
বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ কোনো জাতিকে শক্তিশালী করে না বলে তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘‘অতীতের কর্তৃত্ববাদ, ফ্যাসিবাদ ও অন্যায় যেন আর কখনো ফিরে না আসে, সে জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে অনুসরণ করে এবং ধর্মের শান্তি, ন্যায় ও সম্প্রীতির মর্মবাণীকে হৃদয়ে ধারণ করে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক।