মোটিফে আগুন: জড়িতদের বিচার দাবি দুই ছাত্র সংগঠনের
শোভাযাত্রার মোটিফ পোড়ানোর ঘটনা প্রমাণ করে এতবড় একটি আয়জন কেন্দ্র করে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি, বলছে ছাত্রফ্রন্ট।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রার মোটিফ ‘ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি’ ও ‘শান্তির পায়রায়’ আগুন দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি করেছে ছাত্রদল ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।
ছাত্র সংগঠন দুটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা শনিবার আলাদা বিবৃতিতে ওই ঘটনার নিন্দা জানান।
জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি তুলে ধরে ছাত্রদলের বিবৃতিতে বলা হয়, চারুকলার মোটিফে আগুনের মত ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়ে একটি ‘ভয়াবহ বার্তা’ দিয়ে গেল।
“ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্তে অনলাইন ও বাস্তবে নানাবিধ বিশৃঙ্খলা আর আইন লঙ্ঘনের কাজে জড়িত হচ্ছে।”
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বিবৃতিতে বলা হয়, “শোভাযাত্রার মোটিফ পোড়ানোর ঘটনা প্রমাণ করে এতবড় একটি আয়োজনকে কেন্দ্র করে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। সাধারণত বর্ষবরণ অনুষ্ঠান প্রতি বছর চারুকলার নির্দিষ্ট ব্যাচের শিক্ষার্থীদের তত্ত্বাবধানে ও শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের সম্মিলিত উদ্যোগে হয়ে থাকে। কিন্তু এইবার আয়োজনের শুরু থেকেই চারুকলার শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের মতামত উপেক্ষা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ঐতিহাসিক এই রয়্যালটির নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও চারুকলার শিক্ষার্থী, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনসমূহের মতামত নেওয়া হয়নি। কোনো ধরনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়নি।”
মোটিফে আগুনের ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। বর্ষবরণ শোভাযাত্রা আয়োজনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আজহারুল ইসলাম শেখ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার ভোরের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে আগুন লেগে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রার’জন্য তৈরি করা ‘ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি’ ও ‘শান্তির পায়রা’ মোটিফ পুড়ে যায়। এ ঘটনাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মনে করছে পুলিশ। এর পেছনে ‘ক্ষমতাচ্যুত সরকারের দোসরদের’ হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
সিসিটিভি ভিডিওতে একজনকে চিহ্নিত করা গেলেও তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি ও শাহবাগ থানায় মামলা করেছে। মামলায় নির্দিষ্ট কারও নাম না দিয়ে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনসহ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-
