Published : 08 Feb 2026, 03:26 PM
বাংলাদেশ সরকার রেলওয়ের জন্য পাকিস্তান থেকে মালবাহী ওয়াগন ও যাত্রীবাহী কোচ কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে খবর দিয়েছে দেশটির ইংরেজি সংবাদমাধ্যম ডন।
পত্রিকাটি লিখেছে, অন্য দেশগুলোর তুলনায় কম দামে রোলিং স্টক সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছিল পাকিস্তান। এরপর বাংলাদেশের দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার ইসলামাবাদে পাকিস্তান রেলওয়ের (পিআর) ক্যারেজ ফ্যাক্টরি এবং লাহোরের মুঘলপুরা ওয়ার্কশপ পরিদর্শন করে।
বাংলাদেশ হাই কমিশনের আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কনস্যুলার বিষয়ক সচিব এবং মনোনীত ডি-৮ কমিশনার ফারহাদ ইসলাম এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হুসেইন খান ছিলেন ওই প্রতিনিধি দলে।
পাকিস্তান রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী (ক্যারেজ ও ওয়াগন) মুহাম্মদ নাসির খলিলি প্রতিনিধিদলকে ওয়ার্কশপগুলোর সামগ্রিক কার্যক্রম, কারিগরি সক্ষমতা এবং চলমান প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় ওয়ার্কশপগুলোর পরিচালন ও কর্মদক্ষতার দিকগুলো তুলে ধরে একটি তথ্যচিত্র দেখানো হয়।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বিস্তারিত শোনেন এবং রোলিং স্টক উৎপাদন প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেন।
খলিলি বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ দেশ; ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে দুই দেশের ‘অনেক মিল’ রয়েছে। বিশেষ করে রেলওয়ে খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ‘ব্যাপক সম্ভাবনা’ রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলকে মুঘলপুরা লোকোমোটিভ ওয়ার্কশপ ঘুরিয়ে দেখানো হয়। সেখানে লোকোমোটিভের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফ করা হয়।
পাকিস্তান রেলওয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে ডন লিখেছে, কূটনীতিকরা তাদের পরিদর্শনকে ‘ফলপ্রসূ ও উৎসাহব্যঞ্জক’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং পাকিস্তান রেলওয়ের কারিগরি দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতার ‘প্রশংসা’ করেন।
ফারহাদ ইসলাম বলেন, “আমাদের এই সফর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ।”
খলিলি জানান, পরবর্তী ধাপে বিস্তারিত কারিগরি মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশের রেলওয়ে বিশেষজ্ঞরাও পাকিস্তান সফর করবেন।
ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী হানিফ আব্বাসি দুই দেশের রেলওয়ের মধ্যে সহযোগিতা ‘আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার’ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, এ ধরনের সহযোগিতা থেকে উভয় দেশই ‘উল্লেখযোগ্য সুফল’ পেতে পারে।
পাকিস্তান বর্তমানে শ্রীলঙ্কা, নেপাল, চিলি ও আর্জেন্টিনায় রেলওয়ে কোচ ও ওয়াগন সরবরাহ করছে।
হানিফ আব্বাসি বলেন, “এটি প্রমাণ করে যে কোচ ও ওয়াগন উৎপাদনে আমরা আধুনিক ও নিজস্ব সক্ষমতা অর্জন করেছি।”
ডনের তথ্য বলছে, গত শতকের আশির দশকে পাকিস্তান থেকে রোলিং স্টক কিনেছে বাংলাদেশ।
খলিলি ডনকে বলেন, “এর আগে বাংলাদেশ কোচ ও ওয়াগন সরবরাহের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করছিল। এখন তারা আমাদের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে।”
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল কয়েক দিন আগে ইসলামাবাদের ক্যারেজ ফ্যাক্টরিও পরিদর্শন করেছে বলে জানান তিনি।