১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তির ব্যাখ্যা দিলেন উপদেষ্টা জাহেদ

“দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বা যেকোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ রয়েছে।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Jul 2026, 05:06 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:44 PM

রাষ্ট্রপ্রধান হওয়া কারো বিরুদ্ধে আইনানুগভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে কি না এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেছেন, “দায়মুক্তির ব্যাপার নিয়ে একটু বিভ্রান্তি আছে। বাংলাদেশের একজন মানুষ তার পদে থাকাকালীন সময়ে কোনো লিগ্যাল ইস্যু ফেইস করবেন না—রাষ্ট্রপতি। উনি যতদিন পদে আছেন। 

“উনি যখন পদে নেই, সেটা আগে করা কোনো রকম কোনো যদি মিস কন্ডাক্ট…আমি এই রাষ্ট্রপতির কথা বলছি না, অ্যানি প্রেসিডেন্ট আগে করা কোনো বিষয়, পরেও যদি কোনো কিছু থেকে থাকে, সেগুলোর জন্য নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল অ্যাকশন নেওয়া যাবে।”

মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

গুরুতর অসুস্থতার কথা জানিয়ে গত শুক্রবার বিকালে পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি তোলে জাতীয় নাগরিক পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইনকিলাব মঞ্চ।

তবে পদত্যাগের পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথনে এ ধরনের দাবি উড়িয়ে দিয়ে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের কথা সামনে আনেন সাহাবুদ্দিন।

সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে দুই ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করা বা না করা কোনো কাজের জন্য তাকে আদালতে জবাবদিহি করতে হবে না।

দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যধারা দায়ের বা চালু রাখা এবং তাকে গ্রেপ্তার বা কারাবাসের জন্য পরোয়ানা জারি করা যাবে না।

তবে সরকারপ্রধান বা কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তার দায়িত্বকালেই মামলা করার সুযোগ আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, “দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বা যেকোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ রয়েছে। 

“কিন্তু রাষ্ট্রপতি যতদিন দায়িত্বে আছেন, তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল প্রসিডিউর শুরু করতে পারবেন না। কিন্তু যখন তিনি রাষ্ট্রপতি নেই, তখন এটা করা যাবে। বিভ্রান্তিটা কারো মধ্যে ছিল, এটা আশা করি কেটে যাবে।”

এক সাংবাদিক বলেন, পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ আনা হয়েছে।

জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “কোর্ট কি সরকার? কোর্ট সরকার না। কোর্ট স্বাধীন, আইসিটি—সব কোর্টই। সংক্ষুব্ধ জনগণ যেতে পারেন। সরকার কখনো কখনো কোন মামলার পক্ষ হয়, সব সময় পক্ষ হয় না। 

“সরকারের বিরুদ্ধে কত রিট হয়, প্রচুর রিটে সরকার হারে। খোঁজ নিয়ে দেখা যাবে, উচ্চ আদালতে অসংখ্য রিটে সরকার পরাজিত হয় জনগণের করা রিটে।”