Published : 25 Nov 2025, 03:23 PM
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশেষ চাহিদা সম্পন্নরা (দৃষ্টি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী) যাতে ভোট দিতে পারেন, তার জন্য পদক্ষেপ নিতে সরকারকে আইনি নোটিস দিয়েছেন দুই আইনজীবী।
মানবাধিকার সংগঠন ‘ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’র পক্ষে রিটকারী এই দুই আইনজীবী হলেন—নাঈম সরদার এবং শাহ্ সারোয়ার সালফ শাওন।
তাদের পক্ষে মঙ্গলবার নোটিস পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সচিব বরাবর ই-মেইলে এ নোটিস পাঠানো হয় বলে ‘ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
নোটিসে বলা হয়, প্রচলিত আইন অনুযায়ী, নির্বাচনে বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের (দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, শারীরিক প্রতিবন্ধী) ভোটে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। কিন্তু নোটিস গ্রহীতাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে দেশের প্রায় ৩০ লাখ প্রতিবন্ধী ভোটার নির্বাচনে কার্যকর অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যমের বরাতে নোটিসে বলা হয়, দেশে ৩০ লাখের বেশি প্রতিবন্ধী ভোটার রয়েছেন, যাদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী ভোটার ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন।
“এর ফলে গণতন্ত্র চর্চায় মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। বিপুল সংখ্যক প্রতিবন্ধী নাগরিকের মতামত রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত হচ্ছে না।”
প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নোটিস গ্রহীতাদের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জাতীয় নির্বাচন এবং সব ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের নিশ্চয়তার জন্য মনোনয়ন পত্রের সঙ্গে জামানত হিসেবে নির্ধারিত অর্থ জমাদানের বিধান থেকে অব্যাহতি দিতে ব্যবস্থা নিতে বলা হচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচন এবং সবধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা রাখতে বিবাদীদের অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়াও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্রেইলি ভোটিং পদ্ধতি প্রচলনের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭৩ অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী ভোটারদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিধান থাকার পরও কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার কারণে প্রতিবন্ধী ভোটারদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চত হয়ে পড়েছে বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়।
বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও নোটিস গ্রহীতারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় জাতীয় স্বার্থে নোটিস পাঠানো হয় এবং এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
নোটিস গ্রহীতারা পাঁচদিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট জনস্বার্থে হাই কোর্টে রিট দায়ের করে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে নোটিসে বলা হয়েছে।