Published : 21 Jul 2025, 01:12 PM
আদালতে তোলার পর নিজের নামে গড়ে তোলা ফুটবল একাডেমির খোঁজখবর নিয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
হত্যাচেষ্টা মামলার শুনানির জন্য আদালতে হাজির করার পর ‘ব্যারিস্টার সুমন ফুটবল একাডেমির’ অধিনায়ক সৈকত হেলালের সঙ্গে কথাবার্তা বলে এই খোঁজ নিয়েছেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনের সময় মুগদার মানিকনগরর আবদুল বাছেদ শামীম নামে এক আইনজীবীকে হত্যাচেষ্টা মামলার ব্যারিস্টার সুমনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ইন্সপেক্টর নাজমুল হকের আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম জি.এম. ফারহান ইশতিয়াক এ আদেশ দেন। গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক, শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ ৮ জনকে।
সকাল ১০ টার পর ৮ জনকে হাজতখানা থেকে বের করে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।
সবার পেছনে ছিলেন ব্যারিস্টার সুমন। এসময় তিনি চারপাশে তাকিয়ে দেখতে থাকেন।
আদালতের সিঁড়িতে উঠার আগে তিনি বলেন, “আমি ভালো আছি৷ আপনারা দোয়া করবেন। এরপর তাকে আদালতের দোতলায় নেওয়া হয়।”
তখন তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “প্রতিশোধের আগুনে শুধু আমরা পুড়ছি না। পুরা দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের সঙ্গে বেঈমানি করা হয়েছে।”
এরপর সুমনকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। তখন সুমনকে দেখে তার আইনজীবীরা এগিয়ে যান৷
সুমন বলেন, “কোনো অসুবিধা নেই। আমি ভালো আছি। তখন তিনি নিজের ফুটবল একাডেমির খোঁজ খবর নেন।”
এসময় উপস্থিত একজন বলেন, সৈকত হেলাল (ফুটবল একাডেমির অধিনায়ক) এসেছে।
তখন ব্যারিস্টার সুমন সৈকত হেলালের কাছে তার ফুটবল একাডেমির অবস্থা জানতে চান।
এই ফুটবল একাডেমি সুমন গড়ে তোলেন ২০২০ সালে কোভিড মহামারীর সময়। এর পর থেকে তৃণমূলের সম্ভাবনাময় ফুটবলারদের তুলে আনার চেষ্টা করেছে একডেমিটি। মাঝেমধ্যে ঢাকা থেকে জাতীয় পর্যায়ের কোচদের এনেও প্রশিক্ষণ করানো হয়েছে।
এরপর ১০টা ১০ মিনিটে ঢাকার মহানগর হাকিম জি.এম ফারহান ইশতিয়াক এজলাসে ওঠেন। প্রথমেই ব্যারিস্টার সুমনের মামলায় শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
আদালত থেকে বের করার পর দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা সুমনকে কথা বলতে নিষেধ করলে তিনি রেগে যান। ওই সময় ফুটবলার সৈকত হেলাল তাকে ‘সুমন ভাই’ বলে উচ্চস্বরে ডাকতে থাকেন।
এরপর হাজতখানায় ঢুকে যাওযার আগে ফের সুমন বলেন, “দেশটা পুড়ায় ফেলছে তারা। দেশটাকে বাঁচান। ভালো থাকেন, দেশটা ভালো থাকুক।”
জুলাই আন্দোলনের মধ্যে গত ১৮ জুলাই বিকালে মুগদা মানিকনগর বিশ্বরোড এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন অ্যাডভোকেট আবদুল বাছেদ (শামীম)। এ ঘটনায় ২ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। ব্যারিস্টার সুমন এই মামলার আসামি।
সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রীদের গ্রেপ্তারের ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ আক্টোবর ব্যারিস্টার সুমন গ্রেপ্তার হন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা) আসন থেকে সুমন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
আওয়ামী লীগের ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী মো. মাহবুব আলীকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সুমন প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছিলেন নির্বাচনে।
সোশাল মিডিয়ায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক বিষয়ে পোস্ট ও লাইভ করে আলোচিত ছিলেন ব্যারিস্টার সুমন।