১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিগত নির্বাচন কমিশন ছিল ‘পাতানো’: বদিউল আলম

ভোটারদের প্রার্থী সম্পর্কে তথ্য জানার অধিকার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই,” বলেন তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Sep 2025, 03:27 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:22 PM

বিগত নির্বাচন কমিশন পাতানো কমিশন ছিল বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেছেন, “গত নির্বাচন কমিশন যে পাতানো নির্বাচন কমিশন হয়েছিল, পাতানো হবে, সেটা গঠন করা হয়েছিল, এই তথ্য কমিশনে গিয়ে কিন্তু পাই নাই—স্পষ্টত কার নাম প্রস্তাব করেছে।”

তথ্য না পেয়ে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে বদিউল আলম বলেন, “আদালতে গিয়েছি, এখন পর্যন্ত রায় পাই নাই, জানি না পাব কি না। কিন্তু আমি লেগে আছি যাতে এই তথ্য অধিকার আইনটা প্রয়োগ হয়।”

আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস উপলক্ষে রোববার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছিলেন বদিউল আলম। ‘তথ্য অধিকার আইন: পরিপ্রেক্ষিত পর্যালোচনা’ শীর্ষক এ সেমিনা আয়োজন করে তথ্য অধিকার ফোরাম।

বদিউর আলম মজুমদারের বক্তব্যে ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের নানা অনিয়মের কথা উঠে আসে।

তিনি বলেন, “২১৮ কেন্দ্রে শতভাগ ভোট, ১২০০ কেন্দ্রে বিএনপির শূন্য ভোট, এমনকি আওয়ামী লীগ দুটো কেন্দ্রে শূন্য ভোট পেয়েছে, এসব অনিয়ম উদঘাটন করতে পেরেছি।

“যার ফলে এই স্বৈরাচার বিতাড়নের ক্ষেত্রে যে ন্যারেটিভ তৈরি হওয়া দরকার, তারা একদিকে অবৈধ, আরেকদিকে আমাদের ভোটাধিকার হরণ করেছে—এই ন্যারেটিভগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।”

অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্যোগ নিয়ে তথ্য অধিকার কমিশন গঠন করবে আশা প্রকাশ করে বদিউল আলম বলেন, “পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিদেরকে বাদ দিয়ে, যারা নির্দলীয় সেরকম এবং সাহসী ব্যক্তি তাদেরকে নিয়েই তথ্য অধিকার কমিশন গঠন করবে এবং এই জন্য আমাদেরকে সবাইকে সোচ্চার থাকতে হবে।”

নির্বাচনে প্রার্থী সম্পর্কে নাগরিকের তথ্য পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিয়ে ভারতের আদালত সুস্পষ্টভাবে বলেছে, প্রার্থীদের সম্পর্কে ভোটারদের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার জনগণের বাকস্বাধীনতার অংশ। তারা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভোটারদের প্রার্থীদের সম্পর্কে তথ্য প্রাপ্তির অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেজন্য ভোটারদের প্রার্থী সম্পর্কে তথ্য জানার অধিকার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।”

তথ্য অধিকার আইন নিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটা আইন চেয়েছি। তার মানে এই না যে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আইনটাকে কার্যকর করে ফেলতে পারব।

“কারণ, আমরা হচ্ছি চাহিদার সাইডটা। যারা সাপ্লাই সাইডে আছেন, তাদের উপরে বাস্তব দায়িত্ব—সেটাকে বাস্তবায়ন করার।”

বর্তমান সরকার নাগরিক সমাজ নেতৃত্বাধীন সরকার মন্তব্য করে তিনি বলেন, “নাগরিক সমাজ থেকে গঠিত ব্যক্তিবর্গের সিংহভাগ যে সরকারে দায়িত্বে, সে সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য অধিকার আইনটা প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হচ্ছে না। সুনির্দিষ্ট দাবি সত্ত্বেও।

“শুধু তাই নয়, তথ্য কমিশনটা গঠিত হয়নি এক বছরের বেশি সময়েও। এ নিয়ে আমরা কথা বলছি বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু, এটার ব্যাখ্যাটা পাই না।”

ইফতেখারুজ্জামান  বলেন, “এক বছর পার হল, এটা একটা বিশ্ব রেকর্ড হয়েছে। এটা পৃথিবীতে খুব কম দেশেই আছে, যেখানে আইনগতভাবে বাধ্যবাধকতা থাকার পরেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা কমিশন সরকার প্রতিষ্ঠা করে না এক বছরেও। এরকম দৃষ্টান্ত কোথাও নেই, আমার জানা নেই অন্তত। এবং একইভাবে মানবাধিকার কমিশন।

“এর কারণটা সরকার ব্যাখ্যা করতে পারবে। কিন্তু, আমার মনে হয় একটা হতে পারে, এজন্য যে সরকারের মধ্যে এক ধরনের আত্মতুষ্টি আছে যে, ‘আমরা তো ভুল করতে পারি না। আমাদের তো জবাবদিহিতা দেওয়ার দরকার নেই।’ না হলে এধরনের ক্রিটিক্যাল এরিয়াগুলো কেন বাদ যাবে?”

“সদিচ্ছার অভাব থাকতে পারে। ‘আমাদের কোনো দুর্বলতা আমরা প্রকাশ করতে চাইব না’—এটা হতে পারে।”

এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব (সংযুক্ত) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়া, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ সুজান ভাইজ বক্তব্য রাখেন।

তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের উপ-পরিচালক রুহী নাজ। সেমিনারে প্যানেল আলোচক ছিলেন বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন ও আইসোশ্যালের চেয়ারপারসন অনন্য রায়হান।