১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মানবাধিকার কমিশন বিল পাসের প্রক্রিয়া বর্জনের ঘোষণা বিরোধী দলের

প্রস্তাবিত বিলে মানবাধিকার কমিশনকে আরও দুর্বল করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Aug 2026, 04:52 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:55 PM

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল পাসের পুরো প্রক্রিয়া বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল।

রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংস্থা ও সংশ্লিষ্টদের মতামত উপেক্ষা করে সরকার ‘একতরফাভাবে’ বিলটি পাসের দিকে এগোচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তারা।

রোববার জাতীয় সংসদে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে আলোচনা বর্জন করেন বিরোধী দলের সদস্যরা। তবে একই বৈঠকে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল’ নিয়ে আলোচনায় তারা অংশ নেন।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় মুখপাত্র মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, “জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল নিয়ে সংসদে পরবর্তী কার্যক্রমেও বিরোধী দল অংশ নেবে না।

“অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মানবাধিকার সংক্রান্ত আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আইনটি আরও শক্তিশালী করার কথা থাকলেও বর্তমান বিলটি আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

তার অভিযোগ, আগের আইন শক্তিশালী করার পরিবর্তে প্রস্তাবিত বিলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও দুর্বল করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সীমিত করা হয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির স্বাধীনভাবে মতামত দেওয়ার সুযোগও।

এর সমালোচনা করে নাজিবুর রহমান বলেন, “বিলটি সংসদে তোলার আগে সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির হাত পা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মাত্র দুই দিনের মধ্যে বিলের প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে কমিটির সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকছে না।

“সংসদীয় কমিটিটাকে রাবার স্ট্যাম্পের মত করে ফেলা হয়েছে। যার কারণে আমরা এখানে থাকতে পারছি না, আমরা এখান থেকে এই বৈঠকটাকে বর্জন করতে বাধ্য হয়েছি।”

প্রস্তাবিত আইনকে ‘বিতর্কিত’ ও ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, “এখানে মানবাধিকার রক্ষার কথা বলা হলেও, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি এটা লঙ্ঘন করে, জনগণের সুরক্ষার কোনো জায়গা এখানে রাখা হয়নি। যার কারণে এই কালো আইন, এই আইনের কোনো প্রক্রিয়া, এই আইন পাসের কোনো প্রক্রিয়ার সাথে আমরা যুক্ত থাকতে চাই না। এর কোনো দায়ভার আমরা নিতে চাই না।”

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন প্রথম করা হয় ২০০৯ সালে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ওই আইন সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ করা হয়েছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সেই অধ্যাদেশ রহিত করে আবার ২০০৯ সালের আইন বহাল করা হয়।

এরপর ২০০৯ সালের আইন রহিত করে নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ গত বৃহস্পতিবার সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বিলটি পরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। এই সময়সীমাকে সংসদীয় কমিটির ‘হাত-পা বেঁধে দেওয়ার’ সঙ্গে তুলনা করছে বিরোধী দল।

নাজিবুর রহমান বলেন, “অতীতে আমরা দেখেছি কমিটিতে আমাদের সরকার দলীয় দুই একজন সদস্য যখন তাদের নিজস্ব স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার চেষ্টা করেছেন, নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তাদেরকে ডেকে এই নোট অব ডিসেন্ট প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। এটাকে আমরা মনে করছি, সংসদীয় ফ্যাসিজমের একটা প্রক্রিয়া।

“কমিটিগুলোকে স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করার সুযোগ রাখা উচিত ছিল। এটা না দিয়ে রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত করা, আমরা গণতন্ত্রের জন্য ভালো মনে করছি না। এটাতে ফ্যাসিবাদের যে পথটা রয়েছে, তা উন্মুক্ত করে দিচ্ছে বলে আমরা মনে করছি।”

এদিকে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে দুটি বিলই যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের সভাপতিত্বে বৈঠকে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, এমরান আহমদ চৌধুরী, সাকিলা ফারজানা, মনজুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং আলফারুক আব্দুল লতীফ অংশ নেন।