১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আওয়ামী লীগের লোক দেখানো কর্মকাণ্ডে রোহিঙ্গা সংকট জটিল হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশে থাকায় তার মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নগুলোর লিখিত উত্তর সংসদের টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

আওয়ামী লীগের লোক দেখানো কর্মকাণ্ডে রোহিঙ্গা সংকট জটিল হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: পিএমও

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Sep 2026, 06:29 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ না নিয়ে, লোক দেখানো তৎপরতায় সীমাবদ্ধ ছিল। এতে রোহিঙ্গা সংকট আরও দীর্ঘায়িত ও জটিল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। 

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত আসনের সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। তবে তার মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নগুলোর লিখিত উত্তর কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সংসদের টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন।

সরকার রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং তাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার এ সংকটের দ্রুত এবং টেকসই সমাধানে কাজ করছে।”

রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও দেশের ওপরই নিহিত মন্তব্য করে খলিলুর রহমান বলেন, “বর্তমান সরকারের লক্ষ্য রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।”

এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার কথা বলেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বন্ধু ও দাতা দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান খলিলুর রহমান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সম্প্রতি রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ক্যাম্পের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবিষয়ক একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।”

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন ৮১তম অধিবেশনে সরকার একটি উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করছে তথ্য দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেখানে প্রধানমন্ত্রী প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেবেন।

এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান ও প্রত্যাবাসনের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আরও সুসংহত হবে বলেও মনে করেন তিনি।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘সমমর্যাদার ভিত্তিতে’

সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুল খালেকের প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, “ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে সরকার আন্তরিক। তবে সেই সম্পর্ক সমমর্যাদার ভিত্তিতে হতে হবে।” 

সীমান্ত এলাকার বাংলাদেশিদের জানমালের নিরাপত্তা এবং বৈধ পথে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়েও সরকার আলোচনার মাধ্যমে এগোনোর চেষ্টা করছে বলে তথ্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংরক্ষিত আসনের সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “সীমান্তে কোনো ধরনের পুশ-ইনের চেষ্টা সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি এসব ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে জোরাল প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। দেশের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।” 

২০৩০-৩১ সালে এফডিআই জিডিপির ২.৭ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য

সংরক্ষিত আসনের সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, “বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই আকর্ষণে বিদেশে থাকা বাংলাদেশের মিশনগুলো সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক রোডম্যাপের আওতায় কাজ করছে। সরকারের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশল অনুযায়ী ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে এফডিআই জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

“একই সময়ে সামগ্রিক বিনিয়োগ জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।”

জামালপুর-৩ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ৬৩টি দেশে বাংলাদেশ ৮৬টি কূটনৈতিক মিশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

কিশোরগঞ্জ-১ আসনের মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর কার্যক্রমে দুর্বলতা ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দূতাবাসগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে।” 

ডিসেম্বরে রূপপুরের ইউনিট-১ চালুর আশা

কিশোরগঞ্জ-২ আসনের জালাল উদ্দীনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রযুক্তি জটিল, ব্যয়বহুল এবং কৌশলগত নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাশিয়ার সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের পথে এগোচ্ছে।” 

এ বছরের ডিসেম্বরে কেন্দ্রটির ইউনিট-১ এর কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন খলিলুর রহমান।

তিনি বলেন, “দেশে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে সহযোগিতার অংশ হিসেবে স্মল মডিউলার রিঅ্যাক্টর বা এসএমআর প্রযুক্তি স্থাপনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়ানোর সুযোগও বিবেচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে যোগাযোগ চলছে।”

বিদেশের কারাগারে ১০ হাজার ৬৬ বাংলাদেশি

যশোর-৫ আসনের গাজী এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের কারাগারে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার ৬৬ জন বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন বলে তথ্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।