Published : 22 Jul 2026, 10:26 PM
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় পাথরঘাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নামে থাকা একটি স্কুলের নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে। স্কুলটি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির নাম পাচ্ছে।
অর্থাৎ ‘আনোয়ার হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ নামটি পরিবর্তন করে হবে ‘নূরুল ইসলাম মনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়’। এ বিষয়ে একটি আবেদন পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বুধবার সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন পাঠাতে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পাথরঘাটার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।
এছাড়া তিনটি স্কুলের নাম পরিবর্তনের আবেদন পেয়েছে মন্ত্রণালয়।
এর মধ্যে আছে সিলেটের কানাইঘাটের ‘মূলাগুল উচ্চ বিদ্যালয়’। বিএনপির প্রয়াত যুগ্ম মহাসচিব হারিছ চৌধুরীর নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির নামকরণে আবেদন করা হয়েছে। স্কুলটি নাম ‘মূলাগুল হারিছ চৌধুরী একাডেমী’ রাখার কথা বলা হয়েছে আবেদনে।
কুমিল্লার লাকসামে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের নামে থাকা ‘মো. তাজুল ইসলাম স্কুল অ্যান্ড কলেজের’ নাম বদলে ‘কাঁঠালিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ করতে চান আবেদনকারীরা।
হবিগঞ্জের বাহুবলের ‘সানসাইন মডেল একাডেমির’ নাম এর প্রতিষ্ঠাতা ও তার সহধর্মিণীর নামে ‘ফেরদৌসী শামস মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ করার কথা বলা হয়েছে আবেদনে।
এসব প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক) স্থাপন, পাঠদান ও একাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান নীতিমালা ২০২২ (সংশোধিত ২০২৩) অনুযায়ী সরেজমিনে পরিদর্শন করে তথ্য ও প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।
কুমিল্লা ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং কানাইঘাট, লাকসাম ও বাহুবলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আনোয়ার হোসেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু জাফর সাদেক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রতিষ্ঠানের নাম চিফহুইপ মহোদয়ের নামে নামকরণের আবেদন করেছি। এ বিষয়ে চিফ হুইপ মহোদয় আগ্রহী না। তবে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তার নামে নামকরণের আবেদন করেছি।”
মূলাগুল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আহসান হাবিব বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানটির নাম আগে থেকেই ছিল মূলাগুল হারিছ চৌধুরী একাডেমী। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৯ সালে মাধ্যমিক স্তর এমপিও ভুক্তির সময় প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে মূলাগুল উচ্চ বিদ্যালয় করা হয়েছিল। এখন প্রতিষ্ঠানটির নাম আগের নামে ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।”
মো. তাজুল ইসলাম স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম ওবায়দুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানটির নাম সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলামের নামে হওয়ায় আন্দোলনের পরে প্রতিষ্ঠানটি ভাঙচুরের শিকার হয়। এর জেরে আমার ঘরবাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।
“আন্দোলনকারীদের দাবি মন্ত্রীর নামে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা যাবে না। এখন স্থানীয় গণমান্য ও রাজনৈতিক নেতাদের পরামর্শে নাম পরিবর্তনের আবেদন করেছি।”
সানসাইন মডেল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা শামসুদ্দিন শামস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমার সহধর্মিণীর নাম ফেরদৌসী। দুইজনের নাম মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির নাম ফেরদৌসী শামস মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ করার আবেদন করেছি।”
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম বাদ দেওয়া শুরু হয়।
গত বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে দেশের ৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শেখ পরিবারের সদস্য ও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম বাদ দেয় মন্ত্রণালয়।