১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিনিয়োগে চোখ রেখে নতুন ভিসা নীতিমালা, খসড়া পরিমার্জনে কমিটি গঠন

এই নীতিমালা আরো পরিমার্জনের জন্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিনিয়োগে চোখ রেখে নতুন ভিসা নীতিমালা, খসড়া পরিমার্জনে কমিটি গঠন
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এই বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Jul 2026, 12:00 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:33 PM

বিনিয়োগ ও পর্যটন বাড়ানোর লক্ষ্য ধরে প্রায় দুই দশক আগের নীতিমালা সংশোধন করে নতুন ভিসা নীতিমালা করতে যাচ্ছে সরকার।

বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও বহির্গমন আরো সহজ ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে নতুন ভিসা নীতিমালার যে খসড়া তৈরি করা হয়েছে, তা আরো পরিমার্জনের জন্য অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ তথ্য দিয়েছেন।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ ভবনের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

২০০৬ সালে ভিসা নীতিমালা জারি করে সরকার।

টানা দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পাল্টে যাওয়া বাস্তবতায় বিএনপির নতুন সরকার এই ভিসা নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিল।

বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও বহির্গমনকে সহজ ও সুশৃঙ্খল করা, বিদেশি বিনিয়োগ, ব্যবসা ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতকে উৎসাহিত করা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা, পারস্পরিকতার নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা করা এবং আধুনিক এবং সেবামুখী অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

ভিসা নীতিমালা ২০২৬ এর খসড়া তৈরি করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি পরিমার্জনের জন্য অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি মন্ত্রিসভা-কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।

নাসিমুল গনি বলেন, “আগে হিসাব ছিল পারস্পরিক সব ভিত্তিতে। তোমার লোক এলে আমি এতটুকু ভিসা দেব, এতদিন ভিসা দেব, এ শর্ত। আমরাও তাই করতাম। ওরা যা দেবে আমরাও তাই করব। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের কিছু জায়গায় তো দরকার বেশি।

“সেখানে তার একজন ব্যবসায়ী যদি আসে আমার জন্য সুবিধা। সে এ দেশে বিনিয়োগ করতে পারবে। তো এ নিরিখে এই বোধটা আমাদের হয়েছে। সেই কারণে আমরা এই সরকার চাচ্ছে যে একটা ‘ইকোনমিক থ্রাস্ট’ হোক।”

তিনি বলেন, “ভিসা পলিসিটা সহজ করা। তো এইটা মোটামুটি চূড়ান্ত হয়ে গেছে। কিন্তু শেষে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটা মন্ত্রিসভা কমিটি করা হয়েছে। এর ভেতরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আছে, সিকিউরিটি ইস্যুগুলো দেখবে, পর্যটন মন্ত্রণালয় রয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রয়েছে। যাতে তাদের যদি আরো কোনো ইন্টারেস্ট থাকে যেটা এই পলিসিটাকে সমৃদ্ধ করবে, সেটুকু করে এটা চূড়ান্ত করা হবে।”

নতুন নীতিমালার মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে যাতে বিদেশিরা দ্রুত আসতে পারে, এ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “কারণ আমরা আমাদের দেশে তো অত পুঁজি নেই। এই পুঁজিটা যত বাইরে থেকে ইনভেস্ট হবে তত ভালো। তো অন্য জায়গার সারপ্লাসগুলো আমরা টানার চেষ্টা করছি।”

নতুন নীতিমালায় ভিসার কোনো ক্যাটাগরি করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে নাসিমুল গনি বলেন, “ক্যাটাগরি ৩৪ টাইপের করা হয়েছে।”