১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সেই জিয়াকে মামলা ও দণ্ডমুক্ত করার চেষ্টায় সাবেক একদল সহকর্মী

তিন মামলায় জিয়ার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, সেগুলোর সাজা স্থগিতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার পাশাপাশি ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য একজন আইনজীবীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সেই জিয়াকে মামলা ও দণ্ডমুক্ত করার চেষ্টায় সাবেক একদল সহকর্মী
দেশে না থাকলেও সৈয়দ জিয়াউল হক ফেইসবুকে সক্রিয়।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Aug 2026, 12:27 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

তিন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি, সেনাবাহিনীর বরখাস্ত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হককে দণ্ড ও মামলা থেকে মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে চেষ্টা করছেন তার সাবেক একদল সহকর্মী।

তার বিরুদ্ধে থাকা ডজনখানেক মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

আর যে তিন মামলায় জিয়ার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, সেগুলোর সাজা স্থগিতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার পাশাপাশি হাই কোর্টে ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানির জন্য আসামির পক্ষে মামলা লড়তে রাষ্ট্রের তরফে একজন আইনজীবীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

এসব উদ্যোগের পেছনে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কল্যাণ সমিতি রাওয়ার কয়েকজন নেতা। তারা চাইছেন, সাজা বাতিল ও মামলা প্রত্যাহার করে জিয়াউল হককে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হোক।

রাওয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু নওরোজ খুরশীদ আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, তারা ইতোমধ্যে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সহযোগিতা চেয়েছেন। 

তার দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জিয়াকে মামলার আসামি করা এবং দণ্ড দেওয়ার বিষয়গুলো ছিল ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।

কে এই জিয়া?

২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি সেনাবাহিনী এক সংবাদ সম্মেলনে সরকার উৎখাতে ‘ধর্মান্ধ’ কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার একটি অভ্যুত্থান পরিকল্পনা নস্যাৎ করার খবর দেয়। অভ্যুত্থানচেষ্টাকারীদের নেতা হিসেবে তখন মেজর জিয়ার নাম বলা হয়। 

যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গণজাগরণ মঞ্চের উত্তাল আন্দোলনের মধ্যে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর ধারাবাহিকভাবে জঙ্গি হামলার শিকার হতে থাকেন লেখক, ব্লগার, প্রকাশক, সমকামী অধিকারকর্মীরা।

একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফে বলা হয়, কিছু হামলার পেছনে রয়েছে আল-কায়েদা সমর্থিত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, যারা পরে আনসার আল ইসলাম নাম নেয়। আর তাদের ‘নেতৃত্ব দিচ্ছেন’ সেই বরখাস্ত মেজর জিয়া। 

২০১৬ সালে গুলশান ও শোলাকিয়া হামলার পর জিয়াকে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশ সদর দপ্তর। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র সরকারও ২০২১ সালে জিয়াকে ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে।

লেখক অভিজিৎ রায়, প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন এবং এলজিবিটি অধিকারকর্মী জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব রাব্বী তনয় হত্যা মামলায় জিয়ার মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে। 

এসব মামলা এখন মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য হাই কোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। পলাতক থাকায় জিয়া এসব মামলায় আপিল করার সুযোগ পাবেন না। তবে তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মামলা লড়তে পারবেন। 

ওই তিন মামলা ছাড়াও আরো অন্তত নয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে আটটি মামলা বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন এবং একটি মামলা বর্তমানে তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে।

লেখক নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যা, ব্লগার নীলাদ্রি নিলয় হত্যা, প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুলকে হত্যাচেষ্টার মামলা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি মামলা, বাড্ডা ও ভাটারা থানায় করা গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত দুটি মামলা এবং জুলহাজ মান্নান হত্যা মামলার তদন্তের সময় পুলিশের কাজে বাধা ও অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগে দায়ের করা দুটি মামলার বিচার চলছে। 

এছাড়া কোতোয়ালি থানায় হেফাজত থেকে পালানোর অভিযোগে করা একটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন।

গতবছর জন্মদিনে সৈয়দ জিয়াউল হক ফেইসবুকে নিজের এই ছবি পোস্ট করেছিলেন।  

গতবছর জন্মদিনে সৈয়দ জিয়াউল হক ফেইসবুকে নিজের এই

কেন এই উদ্যোগ

জিয়াউল হকের পক্ষে তৎপর থাকা সাবেক সহকর্মীদের দাবি, ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের পর সেনাবাহিনীর ভেতরে ‘মতপ্রকাশের কারণে’ তিনি নজরদারিতে পড়ে যান। পরে ২০১১ সালে একটি ‘কথিত সামরিক অভ্যুত্থান’ মামলায় তাকে জড়ানো হলে আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন। 

রাওয়া সদস্যরা বলছেন, জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো ছিল ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় ‘বিভিন্ন অসংগতি’ ছিল। 

অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল খুরশীদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্রাথমিকভাবে তারা এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ জানান। 

এরপর চলতি বছরের মে মাসে রাওয়ার চেয়ারম্যান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইনমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করে জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে চলমান আইনি কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র আইনমন্ত্রীর কাছে জমা দেন।

খুরশীদ আলম বলেন, “আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে হাই কোর্টে অনুসরণযোগ্য আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলসংক্রান্ত কার্যক্রমে স্টেট ডিফেন্স কাউন্সেল (রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী) মনোনয়ন এবং মামলাগুলোর অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আইনমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

“রাজনৈতিক হয়রানিমূলক হিসেবে বিবেচিত বাকি নয়টি মামলা সেন্ট্রাল রিভিউ কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হবে বলে আইনমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।”

রাওয়া নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উনারা এসেছিলেন। আমি উনাদের আইন মন্ত্রণালয়ে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছি।”

তবে এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে প্রশ্ন করা হলে কোনো জবাব না দিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

কী কী চেষ্টা চলছে

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের হাতে আসা নথিতে দেখা যায়, জিয়াউল হকের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারওয়ার হোসেনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামসুল ইসলামের কাছেও আবেদন করা হয়েছে।

ওই আবেদনে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে’ দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং জিয়াকে চাকরিতে পুনর্বহালের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, হয়ে থাকলে তার অগ্রগতি কী জানতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনকে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত প্রশ্ন পাঠালেও উত্তর দেননি। 

ওই আবেদনের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা, পুলিশ মহাপরিদর্শক, অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর এবং সেনাবাহিনী প্রধানের কার্যালয়ে। 

পাশাপাশি জিয়াউল হককে ধরিয়ে দিতে পুলিশ সদর দপ্তর ২০ লাখ টাকা পুরস্কারের যে ঘোষণা দিয়েছিল, তা প্রত্যাহারের জন্য আইজিপির কাছে আলাদা আবেদন করা হয়েছে।

ওই আবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন উগ্রপন্থি সংগঠনের সঙ্গে জিয়াকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। 

ওই আবেদনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, "এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। আমি বিষয়টি জানি না। আপনার কাছে প্রথম শুনলাম।"

নথিতে দেখা যায়, মৃত্যুদণ্ডের তিন মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারায় জিয়ার সাজা স্থগিতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনটি আবেদন করা হয়েছে। 

শাহবাগ ও কলাবাগান থানায় দায়ের করা ওই তিন মামলায় আইনজীবীর মাধ্যমে পাঠানো পৃথক আবেদনেও হাই কোর্ট ও আপিল বিভাগে ডেথ রেফারেন্সের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাজা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনটি ডেথ রেফারেন্স মামলায় আসামি পলাতক থাকায় স্টেট ডিফেন্স হিসেবে অ্যাডভোকেট মো. হাফিজুর রহমান খানকে দায়িত্ব দিয়েছে আদালত।

ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় ২০২৬ সালের ৭ মে, অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় ২০২৫ সালের ১৪ মে এবং জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব রাব্বী তনয় হত্যা মামলায় ২০২৬ সালের ১ মে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের আদেশ দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তিনি পেপারবুক সংগ্রহ ও পর্যালোচনার কাজ শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট নথি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য প্রস্তুতি নেবেন।

বর্তমানে ২০১৯ সালের ডেথ রেফারেন্স মামলাগুলোর শুনানি চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ডেথ রেফারেন্সগুলোর শুনানির পর্যায় এলে এই তিনটি মামলাও কার্যতালিকায় আসবে।

এছাড়া বাকি নয়টি মামলা ‘রাজনৈতিক মামলা পর্যালোচনা কমিটি’র মাধ্যমে প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ইতোমধ্যে ওই নয়টি মামলা থেকে জিয়াউল হকের নাম বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছেন বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

জেলা রিভিউ কমিটি ৬১টি মামলা প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠালেও সেখানে যে ওই নয়টি মামলার কথা আসেনি, সে কথাও বলা হয়েছে আবেদনে। 

জিয়াউল হকের ফেইসবুক পোস্ট

জিয়াউল হকের ফেইসবুক পোস্ট

অনলাইনে সক্রিয় জিয়া

রাওয়ার কয়েকজন সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, জিয়াউল হক বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। 

তবে স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর সঙ্গে রাওয়া নেতাদের বৈঠকের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। দুই মন্ত্রীর সঙ্গে রাওয়া প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের ছবি নিজের ফেইসবুক পাতায় প্রকাশ করে তিনি রাওয়াকে ধন্যবাদ জানান।

বিভিন্ন ফেইসবুকভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের পডকাস্টে অংশ নিয়ে নানা বিষয়ে মতামতও দিচ্ছেন জিয়া। তার নামে ‘মেজর জিয়াউল হক মুক্তি পরিষদ’ নামে একটি ফেইসবুক পেইজ চালু রয়েছে। তার মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মৌলভীবাজারে একটি সংবাদ সম্মেলনও করা হয়।

আইন কী বলে

ডেথ রেফারেন্স বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার অধীনে সরকারের সাজা ‘স্থগিত’ করার ক্ষমতা রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা বা আলোচিত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সাজা স্থগিত করে আপিলের সুযোগ দেওয়ার নজির আছে। তবে সরকারের নির্বাহী সিদ্ধান্তে আদালতের রায় ‘প্রত্যাহার বা বাতিল’ করার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ব্যক্তিগতভাবে আইনজীবী নিয়োগ করে আপিল বা অন্য আইনি প্রতিকার চাইতে গেলে তাকে আগে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হয়। তবে সরকারের আদেশে সাজা স্থগিত হলে কারাগারে না গিয়েও আইন অনুযায়ী তার পরবর্তী আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিচার চলা অবস্থায় মামলা প্রত্যাহারের জন্যও সরকার সুপারিশ করতে পারে। কিন্তু একবার বিচার হয়ে গেলে আপিল পর্যায়ে মামলা প্রত্যাহারের সুযোগ নাই।”

সাজা স্থগিতের আইনি ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, আসামি পলাতক থাকলে দেশে এসে অথবা না এসে ‘গভার্নমেন্ট মেশিনারিজকে’ কাজে লাগিয়ে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯৪ ধারার অধীনে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারে এবং সরকার সে বিষয়ে সুপারিশ করতে পারে। তবে সেটা মামলার তদন্ত এবং বিচারের পর্যায় পর্যন্ত সম্ভব।  রায়ের পরে যেটা হতে পারে, সেটা হল, সরকার সেই সাজার বাস্তবায়ন স্থগিত করতে পারে।”

এক্ষেত্রে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাবেক জামায়াত নেতা আবুল কালাম আযাদের সাজা স্থগিত রাখার উদাহরণ দেন আজিজুর রহমান দুলু।

তিনি বলেন, “বাচ্চু রাজাকারের (আযাদ) যেটা হইছে, সেটা হল, ইন্টেরিম সরকার ওর সাজাটা স্থগিত করেছিল। সাজা স্থগিত করার কারণে তখন তিনি কিন্তু সারেন্ডার করে আপিল করছেন। রায় স্থগিত থাকায় কারামুক্ত অবস্থায় আছেন।"

জিয়ার ক্ষেত্রেও সেরকম সম্ভব কিনা জানতে চাইলে এ আইনজীবী বলেন, "হ্যাঁ, এই আসামির ক্ষেত্রেও সম্ভব। সরকার যদি এক্সিকিউশন স্থগিত করে, তাহলে সম্ভব। তবে দেখতে হবে যে সরকার আসলে কীসের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়, কী কারণে সিদ্ধান্ত নেয়।"