১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সহযোগিতা পেলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম: সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রী

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে এক প্রীতিভোজে সেনা কর্মকর্তা, সৈনিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারেক রহমান।

সহযোগিতা পেলে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম: সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রী
ঈদুল আজহা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে এক প্রীতিভোজে সেনা কর্মকর্তা, সৈনিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 May 2026, 08:09 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:19 PM

সবার সহযোগিতা পেলে সরকার ‘কাঙ্ক্ষিত’ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সেনা সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও আনন্দ ভাগাভাগি করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসে এক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। 

সেনা সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “সৈনিকসহ দেশের সাধারণ মানুষ যেভাবে আমরা দেশকে আমাদের কল্পনায় দেখি, সরকার চেষ্টা করছে পর্যায়ক্রমে দেশটাকে সেভাবে গড়ে তোলার জন্য। আমি বাংলাদেশে বহু বছর থাকতে পারিনি। কেন থাকতে পারিনি আমি সে বিষয়ে যাচ্ছি না এবং সে সময় ভালো মন্দ কী হয়েছে দেশে, কম বেশি আপনাদের ধারণা আছে। আমরা দেশটিকে আরো ভালো জায়গায় নিতে চাইছি।

“আমাদের সবারই নির্দিষ্ট কর্তব্য আছে এবং এই নির্দিষ্ট কর্তব্য যদি আমরা যার যার অবস্থান থেকে সঠিকভাবে পালন করতে সক্ষম হই, অবশ্যই ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের যে কাঙ্খিত দেশ ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে সক্ষম হব।”

ঢাকা সেনানিবাসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সেনা সদস্যদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। ছবি: পিআইডি

ঢাকা সেনানিবাসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সেনা সদস্যদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ এই ঈদের দিনে আসুন, আল্লাহর কাছে আমরা প্রার্থনা করি, রহমত চাই, তিনি যাতে আমাদের সবাইকে আমাদের ওপরে যে দায়িত্ব আছে, সে দায়িত্ব পালন করার তৌফিক দেন।

“একইসঙ্গে আমাদের এই দায়িত্ব পালনের মধ্যে দিয়ে আমরা যাতে আমাদের পরিবার, স্বজন এবং সামগ্রিকভাবে সারাদেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে পারি। আমরা আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে পারি।”

এ দিন দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের জিয়া কলোনিতে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী পঁচিশ’ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট আয়োজিত প্রীতিভোজে অংশ নেন সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকরা।

প্রধানমন্ত্রী তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল একেএম শামসুল ইসলামকে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান।

তিনি সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো সেনা কর্মকর্তা, সৈনিক এবং তাদের সন্তানদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ‘পঁচিশ মৃত্যুঞ্জয়ী’ ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপন এবং পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা সেনানিবাসের ‘পঁচিশ মৃত্যুঞ্জয়ী’ ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপন করেন। ছবি: পিআইডি 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা সেনানিবাসের ‘পঁচিশ মৃত্যুঞ্জয়ী’ ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপন করেন

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে ঢাকা সেনানিবাসে নিজের শৈশবের নানা স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, “আমি আসছিলাম যখন… এই স্টাফ রোড দিয়ে ডান দিকে টার্ন নিলাম, সিএমএইচের কাছাকাছি যখন আসলাম তখন মনে হল আমি প্রায় ৪৫/৪৬ বছর পেছনে চলে গেছি। আমার সঙ্গে গাড়িতে যারা ছিল ওদেরকে গল্পটা বলছিলাম।”

সাবেক সেনাপ্রধান ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমনের ছেলে তারেক রহমানের স্মৃতিচারণায় উঠে আসে কৈশোরে প্রতিদিন বিকালে শহীদ মইনুল সড়কে বাসা থেকে সাইকেল চালিয়ে বন্ধুদের নিয়ে ঘোরার কথা। 

তিনি বলেন, “আমি আজ এমন একটা জায়গায় এসেছি, যে জায়গার সঙ্গে আমার জীবনের বিরাট একটা অংশ জড়িয়ে আছে। আমার ভালো-মন্দ, কষ্ট-ব্যথা, সুখ-দুঃখের একটা বিশাল স্মৃতি এই পুরা জায়গাটার সঙ্গে জড়িয়ে আছে।”

দেশমাতৃকার প্রতি সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকদের দায়িত্ববোধের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা দেশের প্রয়োজনে অনেকেই হয়ত আজ ছুটিতে যেতে পারেননি। স্বাভাবিকভাবে ঈদের সময় মানুষ পরিবারের সঙ্গেই থাকতে চায়। আপনারা যে ত্যাগ করেছেন তার জন্য আমি আমার পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাইছি।”