১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আনার হত্যা: জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন ৩ জনের

তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

আদালত প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Jul 2024, 05:10 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:55 AM

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলায় ‘দায় স্বীকার’ করে দেওয়া জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন তিন আসামি।

বৃহস্পতিবার সেসব আবেদন শুনে নথিভুক্ত করে রাখার আদেশ দিয়েছেন ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মাহবুবুল হক।

আবেদনকারীরা হলেন- ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবু, শিমুল ভুঁইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভুঁইয়া ওরফে আমানুল্যাহ সাঈদ ও তানভীর ভুঁইয়া।

আসামিদের উপস্থিতিতে তাদের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সাবেক সরকারি কৌঁসুলি এহসানুল হক সমাজীসহ কয়েকজন আইনজীবী। শুনানি শেষে আদালত আবেদনগুলো নথিভুক্ত রাখার নির্দেশ দেন। 

একইসঙ্গে আসামিরা রিমান্ডে ‘নির্যাতনের কারণে অসুস্থ’ হয়ে পড়ার কথা বলে চিকিৎসার আবেদন করেন। বিচারক কারাবিধি অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসার নির্দেশ দেন।

আসামি বাবুর ১৬৪ ধারার জবানবন্দি প্রত্যাহারের শুনানি শেষে তার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী বলেন, “জবানবন্দিতে যে বক্তব্য বলা হয়েছে সেটা সত্য ও ইচ্ছাকৃত না। এই বক্তব্য তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বলানো হয়েছে। মূলত মামলাটি তদন্তাধীন। 

“তদন্তাধীন কোনো মামলায় আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি জনসম্মুখে প্রকাশ করার একটা বাধা রয়েছে। কারণ এটা হচ্ছে প্রাইভেট ডকুমেন্টস। এটা নিয়ে বক্তব্য দেওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। কি করে গণমাধ্যমে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রকাশ পেল?”

তদন্তাধীন ‘স্পর্শকাতর’ বিষয়ে হুবুহু বক্তব্য গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ বেআইনি বলেও দাবি করেন আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদনটি এখন নথিতে থাকবে। এর গুরুত্ব তৈরি হবে- যখন আসামিপক্ষ ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় (আসামির পরীক্ষা) আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন এই আবেদনের কারণ যথার্থতার মেলবন্ধন করতে পারেন। 

“ততদিন এ আবেদন নথিতে ঘুমিয়ে থাকবে, জেগে উঠবে আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন। সেদিন যৌক্তিক মনে করলে বিচারিক আদালত এ আবেদনের বক্তব্য অর্থাৎ জোর করে নেওয়া, কারসাজি করা জবানবন্দি আমলে নেবেন।”

তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছাল

এদিকে আনারকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলায় আগামী ৮ অগাস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ঠিক করা ছিল। কিন্তু তদন্ত সংস্থা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। 

এ কারণে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মাহবুবুল হক প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ঠিক করেন বলে জানান আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এসআই জালাল উদ্দিন।

যেভাবে যা ঘটল

গত ১১ মে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে নিখোঁজ হন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনার। তার বন্ধু স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাস কলকাতায় জিডি করার পর দুই দেশে তদন্ত শুরু হয়।

এরপর ২২ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এমপি আনারকে কলকাতার এক বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

ওইদিনই আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে তার বাবাকে ‘হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের’ অভিযোগ আনা হয়। তবে আসামি হিসেবে সেখানে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।

পরে বাংলাদেশের পুলিশ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে, যাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন- শিমুল ভুঁইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মদ ভুঁইয়া ওরফে আমানুল্যাহ সাঈদ, তানভীর ভুঁইয়া, সেলেস্টি রহমান, কাজী কামাল আহমেদ ওরফে গ্যাস বাবু, মোস্তাফিজুর রহমান ফকির ও ফয়সাল আলী সাহাজি। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন। 

এ মামলায় গ্রেপ্তার ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি দায় স্বীকার করে কোনো জবানবন্দি দেননি।

পুলিশ বলছে, এমপি আনার হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী তার বাল্যবন্ধু ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ঝিনাইদহের আখতারুজ্জামান শাহীন। আর হত্যাকাণ্ডটি বাস্তবায়ন করেছেন চরমপন্থি নেতা আমানুল্লা ওরফে শিমুল।

আনার কলকাতায় যাওয়ার পরদিন বৈঠক করার জন্য আখতারুজ্জামান শাহীনের ভাড়া বাসায় যান। সেখানেই আসামিরা তাকে হত্যা করে।