Published : 17 May 2026, 04:30 PM
ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে ৫৫টি মোবাইল ফোন ও বিপুল পরিমাণ মালামালসহ ‘অজ্ঞান পার্টির হোতাকে’ গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)।
শনিবার বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ার পর তাজুল ইসলাম নামে ৪৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
রোববার এপিবিএনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আরাফাত হোসেন নামে ১৮ বছরের এক তরুণ তার খালাতো ভাইকে বিদায় জানাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন।
বিদায় পর্ব শেষে বহির্গমন এলাকায় অবস্থানকালে আরাফাতকে কফি পান করানোর প্রস্তাব দেন তাজুল। আরাফাত সরল বিশ্বাসে কফি পান করার পরে অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
পরে অভিযান চালিয়ে এপিবিএনের সদস্যরা তাজুলকে আটক করে তার দেহ ও ব্যাগ তল্লাশি করে ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেনের দুটি মোবাইল ফোন ও কিছু নগদ অর্থ উদ্ধার করে।
এছাড়া তার ব্যাগ থেকে প্রায় ১৫টি চেতনানাশক ট্যাবলেট পাওয়ার তথ্য দিয়েছে এনপিবিএন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে তাজুল জানিয়েছেন, তারা বাস বা রেলস্টেশনে গিয়ে নিশানা করা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথাবার্তার মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। পরে চা, কফি বা কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে তাদের অজ্ঞান করে মালামাল হাতিয়ে নেন।
মাঝে মাঝে শারীরিকভাবে অক্ষম বা অসুস্থ ব্যক্তির অভিনয়ও করেন তারা, যাতে ভুক্তভোগী সন্দেহ না করে, বলছে এপিবিএন।
আটক তাজুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এপিবিএন জানতে পেরেছে, তিনি আরও চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি ‘অজ্ঞান পার্টির’ চক্র গড়ে তুলেছেন এবং চুরিকৃত মালামাল মিরপুরের দারুসসালাম এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষে সংরক্ষণ করে রাখতেন।
পরে এ তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর ১৩ এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার ফাউজুল কবীর মঈনের নেতৃত্বে একটি দল দারুসসালাম এলাকার হোটেল রয়েলে অভিযান পরিচালনা করেন।
সেখানে ৫৫টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন, ১০টি বিভিন্ন মডেলের ‘ইয়ারবাড’, ১৫টি হাতঘড়ি, চারটি চেতনানাশক ট্যাবলেট, দুটি চেতনানাশক পুরিয়া, নগদ ২ লাখ ২৩ হাজার টাকা, সৌদি আরবের সাড়ে ৫৩ রিয়াল, তুরস্কের ১ লিরা এবং বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় তাজুলের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন বাদী হয়ে রোববার বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
বিমানবন্দর এপিবিএনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশনস্) অনিতা রানী সূত্রধর বলেন, “বিমানবন্দর এলাকায় অজ্ঞান পার্টি প্রতিরোধ ও অন্যান্য অপরাধ দমনে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”