১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘুরতে হবে না আর, এক জায়গায় সব সুবিধা পাবেন বিনিয়োগকারীরা: প্রতিমন্ত্রী শামা

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, বলেন তিনি।

ঘুরতে হবে না আর, এক জায়গায় সব সুবিধা পাবেন বিনিয়োগকারীরা: প্রতিমন্ত্রী শামা
ঢাকায় সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি (এনআরবি) আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Sep 2026, 01:46 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সব সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেছেন, “ওয়ান স্টপ সার্ভিসের আদলে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্ট’ নামে একটি আইন পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যেন ১০ জায়গায় ঘুরে বেড়াতে না হয় এবং এক পয়েন্ট থেকেই প্রয়োজনীয় সব সুবিধা পান, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে ‘আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছিলেন প্রতিমন্ত্রী।

সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি (এনআরবি) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

শামা ওবায়েদ বলেন, দেশে বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিজিটাল সেবা আরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। যাতে কোম্পানি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজ অনলাইনে সহজে সম্পন্ন করা যায়।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও স্বাচ্ছন্দ্যে দেশে বিনিয়োগ করতে পারেন।

অর্থনৈতিক কূটনীতিকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বিপর্যস্ত ব্যাংকিং খাত পেয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে অর্থনীতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।”

ব্যাংকিং খাতকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, বলেন তিনি।

শামা ওবায়েদ বলেন, শুধু বিদেশিদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানালেই হবে না, বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে। সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

নাগরিকসেবা সহজ করতে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

“একজন নাগরিকের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ছড়িয়ে থাকা তথ্য সমন্বয় করে একটি কনসোলিডেটেড ডেটাবেজ তৈরির কাজ চলছে।”

এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় দুই লাখ প্রবাসী কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেন তিনি।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অবৈধ অভিবাসন ও দালালচক্রের কারণে অনেক বাংলাদেশি বিদেশে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

এসব সমস্যা মোকাবিলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তিকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ দিয়ে বৈধ পথে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অভিবাসনসংক্রান্ত একটি বিশেষ দপ্তর চালু করা হয়েছে। এটি অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করবে।

বাংলাদেশকে আরও ভ্রমণ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

অর্থনীতির বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, এলএনজির নতুন উৎস এবং ‘ব্লু ইকোনমির’ সম্ভাবনা নিয়ে সরকার কাজ করছে।

পাশাপাশি সৃজনশীল অর্থনীতি, কুটিরশিল্প, হস্তশিল্প ও স্থানীয় পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

পাটকে বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় সম্পদ হিসেবে তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশবান্ধব ও ‘বায়োডিগ্রেডেবল ফাইবার’ হিসেবে পাট ও পাটজাত পণ্যকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধু সমস্যার দেশ নয়, বাংলাদেশ সম্ভাবনার দেশ। পর্যটন, ব্যবসা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিপুল সুযোগ রয়েছে দেশে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার একা সব পরিবর্তন করতে পারবে না। বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে একটি আধুনিক, আত্মবিশ্বাসী ও সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে তুলে ধরতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস সেকিল চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ, সাবেক গুম কমিশনের সদস্য নূর খান লিটন, ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খান।