‘পিছু ধাওয়ার’ আতঙ্কে ভবনের রেলিং বেয়ে উঠছিলেন যুবক, পা পিছলে নিচে পড়ে মৃত্যু
হৃদয় বেশ কিছুদিন ধরে ‘মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন’।
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে একটি তিনতলা ভবনে রেলিং বেয়ে ওঠার সময় ‘পা পিছলে নিচে পড়ে’ প্রাণ গেছে এক যুবকের।
কামরাঙ্গীরচরের মাদবর বাজার এলাকার ওয়ালটন গলিতে শনিবার রাত ৩টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহত ২৬ বছর বয়সি হৃদয় কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর থানার হিলচিয়া গ্রামের শাহজাহানের ছেলে। তিনি কামরাঙ্গীরচর এলাকায় পরিবারসহ থাকতেন এবং পেশায় ছিলেন রিকশাচালক। প্রায় এক বছর আগে বিয়ে করেন হৃদয়, তার ছেলের বয়স তিন মাস।
কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই রাকিব হোসাইন বলেন, স্থানীয়দের বক্তব্য ও প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হৃদয় বেশ কিছুদিন ধরে ‘মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন’।
“তিনি শিশুদের দেখলে আতঙ্কিত হতেন এবং প্রায়ই ভাবতেন কেউ তার পিছু ধাওয়া করছে।”
এসআই রাকিব হোসাইন বলেন, “ঘটনার রাতে বাস্তবে কেউ পেছনে না থাকলেও তিনি আতঙ্কে দৌড়াতে দৌড়াতে একটি ভবনের রেলিং বেয়ে তিনতলার দিকে উঠতে থাকেন। ওই সময় স্থানীয় লোকজন তাকে ওপরে উঠতে নিষেধ করলেও তিনি কারও বারণ শোনেননি। এক পর্যায়ে অসাবধানতাবশত পা পিছলে নিচে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।”
হৃদয়ের ভাই শাহ আলম বলেন, “তিনি কী উদ্দেশ্যে গভীর রাতে ওই ভবনে গিয়েছিলেন, তা আমরা পরিবারের সদস্যরা এখনো বুঝতে পারছি না। ঘটনার সময় আমরা গ্রামে ছিলাম সেখান থেকেই আমরা দুঃসংবাদটি জানতে পারি।”
শাহ আলম জানিয়েছে, ওই ভবন থেকে নিচে সরু গলির মধ্যে তার ভাই পড়ে যাওয়ার পরে আশপাশের লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়।
এরপর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
