১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জীবদ্দশায় ছেলের হত্যার বিচার চান আবু সাঈদের বাবা মকবুল

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ছেলের মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Aug 2025, 02:29 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:12 PM

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার বিচার জীবদ্দশাতে দেখতে চেয়েছেন তার বাবা মকবুল হোসেন।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তার সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে তাকে আসামিদের আইনজীবীরা জেরা করেন। ফের জেরা চালানোর কথা জানিয়ে ট্রাইব্যুনাল দুপুর ১টায় আদালতের কার্যক্রম ২ ঘণ্টার জন্য মুলতবি করে।

পরে কৌঁসুলি মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “উনি [আবু সাঈদের বাবা] দু্ই জনের নাম বলেছেন– সুজন চন্দ্র আর আমির হোসেন। আর পমেল বড়ুয়া ওনার ছেলেকে মেরেছে, গলা টিপে ধরেছেন। তিনি সবার বিচার চেয়েছেন এবং উনার জীবদ্দশাতেই যেন বিচারটা হয়।” 

আসামিদের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো. আমিনুল গণি, সুজাত মিয়া, মো. শহীদুল ইসলাম, মাহবুব উর রশীদ, ইশরাত জাহান, মো. সালাহ উদ্দিন, শেখ মোস্তাবীর হাসান, মো. আজিজুর রহমান। 

আজিজুর রহমানের জেরা চলার মাঝামাঝিতে দুপুর ১টায় কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয় ২ ঘণ্টার জন্য। 

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ছেলের মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে আবু সাঈদের বৃদ্ধ বাবা কান্নায় ভেঙে পড়েন। আগেরদিনও তিনি গুলিতে আবু সাঈদের পড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে কাঁদেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, মো. মিজানুল ইসলাম, বি এম সুলতান মাহমুদ, শহীদুল ইসলাম সুজাসহ আরও কয়েকজন।

এর আগে বুধবার প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে আবু সাঈদ হত্যার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, মানবতাবিরোধী অপরাধ, তদন্ত, বিচার বিষয়ে প্রসিকিউশনের বক্তব্য তুলে ধরেন।

বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পুলিশ। ওই সময় এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দিতে দেখা যায় তাকে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আবু সাঈদ।

তার বুক পেতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার এ ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের এক দফা দাবিতে গড়ায়। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে ওই বছরের ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান।

গত ২৪ জুন আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। ৩০ জুন মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। ২৮ জুলাই এ মামলার ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন।

গত ৬ অগাস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যসহ ২৬ জন এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষে গত ২২ জুলাই সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।