১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিচারবহির্ভূত হত্যা তদন্তে সিআইডি-জাতিসংঘ দলের কর্মশালা

আলোচনায় জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত অপরাধের তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি, সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ উঠে আসে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Jul 2025, 10:18 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:29 PM

বিচারবহির্ভূত হত্যা তদন্তে ঢাকায় সিআইডির সদর দপ্তরে মিনেসোটা প্রটোকল অনুসরণ বিষয়ক দুই দিনের কর্মশালা হয়েছে।

সিআইডি ও জাতিসংঘের রেসিডেন্ট কো-অর্ডিনেটর অফিসের বিশেষজ্ঞ দলের উদ্যোগে বুধ ও বৃহস্পতিবার এ কর্মশালা হয়েছে বলে সিআইডি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

কর্মশালার আলোচনায় জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত অপরাধের তদন্ত কার্যক্রমের অগ্রগতি, সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ উঠে আসে।

আলোচনার মূল বিষয়ের মধ্যে ছিল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুযায়ী মৃতদেহ শনাক্ত করা, বিজ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল ও নিরপেক্ষ ফরেনসিক রিপোর্ট প্রস্তুতের প্রক্রিয়া, মানবাধিকার সংরক্ষণে পুলিশি তদন্তের নৈতিক ও পেশাগত দিকনির্দেশনা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে আলোচিত কেস স্টাডি উপস্থাপন।

কর্মশালায় পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের সদস্য, চিকিৎসা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধি, প্রযুক্তি ও অনুসন্ধান খাতের পেশাজীবীরা অংশ নেন।

কর্মশালায় সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ বলেন, “সিআইডি এখন একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত সংস্থা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা আমাদের অঙ্গীকার।

“মানবাধিকার রক্ষা ও বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সঠিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও প্রমাণনির্ভর তদন্ত পদ্ধতি প্রয়োগ অত্যাবশ্যক। আর এ ধরনের কর্মশালা সে প্রয়াসকে এগিয়ে নিয়ে যায়।”

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার অন এক্সট্রা জুডিশিয়াল, সামারি অর অ্যারবিট্রারি এক্সিকিউশন মরিস টিডবল-বিনজ।

তিনি বলেন, “মিনেসোটা প্রটোকল হল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা, যা আইনবহির্ভূত মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে সহায়তা করে এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (ফরেনসিক) শম্পা ইয়াসমীন সিআইডির ডিএনএ ও অন্যান্য ফরেনসিক সুবিধা সম্পর্কে আলোচনা করেন।

সভাশেষে সিআইডির প্রধান ভবিষ্যতে সিআইডির ফরেনসিক সক্ষমতা আরও সম্প্রসারণে গুরুত্বারোপ করেন। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।