তামিম হত্যা: মন্ত্রী রবিসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ফের তদন্ত? জানা যাবে ৫ অক্টোবর
সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত রায়ের দিন ধার্য করেছে।
ঢাকার মহানগর আবাসিক এলাকায় দীপ্ত টিভির সম্প্রচার কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিম হত্যা মামলায় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ নয় আসামির বিরুদ্ধে আবার তদন্ত হবে কি না, তা জানা যাবে ৫ অক্টোবর।
এই আসামিদের অব্যাহতি আদেশের বিরুদ্ধে তামিমের পরিবারের করা রিভিশন মামলার রায়ের জন্য দিনটি রাখা হয়েছে।
ঢাকার ত্রয়োদশতম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলাম রোববার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন বলে বাদীর আইনজীবী আব্দুল আলীম জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর হাতিরঝিল থানার মহানগর আবাসিক এলাকায় নিজেদের বাসায় হামলার শিকার হন তামিম। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পরদিন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ হাতিরঝিল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ডেভেলপার কোম্পানি প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজের এমডি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুনসহ ১৬ জনের নাম দেওয়ার পাশাপাশি অচেনা ১১-১২ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার দিনই ডিএমপির তরফে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়েছিল, শেখ রবিউল আলম রবির প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজ নিহত তামিমের বাবার জমিতে চুক্তির ভিত্তিতে একটি ভবন তৈরি করে। সেই ভবনের ফ্ল্যাট ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ডেভেলপার কোম্পানির প্রতিনিধি, মামুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তামিমকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর পিবিআইয়ের এসআই জাকারিয়া আলম তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর আদালতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র এবং এক কিশোরের বিরুদ্ধে দোষীপত্র জমা দেন। তবে রবিউল আলমসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য না পাওয়ায়’ তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ৮ জানুয়ারি আদালতে নারাজির আবেদন করেন তামিমের বাবা সুলতান আহমেদ।
অব্যাহতির সুপারিশ পাওয়া সবার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে বাদী মামলাটি পুনঃতদন্তের আর্জি জানান।
তবে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ ৩ মার্চ বাদীর নারাজি আবেদন নামঞ্জুর করে মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। রবিউল আলমসহ ৯ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।
আদেশে বলা হয়, মামলাটি আরও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন নেই মর্মে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়।
এ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করেন বাদী সুলতান আহমেদ, যার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে রোববার।
এ মামলায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে, তারা হলেন—প্লেজেন্ট প্রোপার্টিজের লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা আব্দুল লতিফ, সিইও ফাইজুল আহম্মেদ প্রকাশ সুমন, মামুনুর রশীদ মামুন, কোরবান আলী, এস এম ইব্রাহিম হোসাইন, বাধন, গাজী জাকির হোসেন, রাসেল, মনির হোসেন, শাহরাজ উদ্দিন, আমিরুল ইসলাম ওরফে আমির, সুমন মল্লিক, মাহফুজার রহমান।
যারা অব্যাহতি পেয়েছেন, তারা হলেন—মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুন, মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, ফজলুর রহমান, আরিয়ান, নাসরিন আক্তার, রাসেল, মাহফুজুর রহমান, মোজাম্মেল হক কবির ও ইমাম হোসেন।
রোববার রিভিশনকারী সুলতান আহমেদের পক্ষে আইনজীবী শুনানি করেন আব্দুল আলীম।
রবিউল আলম ও মোহাম্মদ মামুনের আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার উপস্থিত না থাকায় তার পক্ষে আদালতে আসেন আইনজীবী হাফিজ হারুন অর রশীদ খান।
তিনি আদালতকে বলেন, পারিবারিক গুরুত্বপূর্ণ কাজে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন মাসুদ আহমেদ তালুকদার। এ কারণে রিভিশন শুনানি করা সম্ভব হচ্ছে না। সময় চেয়ে আবেদন করেন তিনি।
বাদীর আইনজীবী আব্দুল আলীম বলেন, “আদালত শুনানি নিয়ে সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। আগামী ৫ অক্টোবর রায়ের জন্য রেখেছেন। তবে আদালত মৌখিকভাবে বলেছেন, রায়ের আগে প্রতিপক্ষ আইনজীবীকে শুনানি করতে বলেছেন।”
আগের খবর:
