১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আবাসন ব্যবসার নামে অর্থ আত্মসাৎ, ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর রোববার দেশে ফিরলে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ওই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

আবাসন ব্যবসার নামে অর্থ আত্মসাৎ, ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার হায়দার কবির মিথুন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 May 2026, 07:34 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:35 PM

আবাসন ব্যবসার নামে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

রোববার ভোরে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হায়দার কবির মিথুন নামে ওই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। উত্তর পূর্ব থানার একটি প্রতারণা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।  

সিআইডি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, মিথুন ‘হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স লিমিটেড’ নামে একটি আবাসন কোম্পানির উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক। দীর্ঘদিন বিদেশ থেকে রোববার ভোরে তিনি দেশে ফেরেন।

উত্তরা পূর্ব থানার মামলার বরাতে সিআইডি বলছে, ‘হলিস্টিক হোম বিল্ডার্স’ কোম্পানির অফিস ছিল উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে। উত্তরখান থানার কাছে দশ কাঠা জমির উপর ৯ তলা একটি ভবন নির্মাণ করে মোট ৩৬টি শেয়ার বিক্রির প্রচারণা চালায় তারা। প্রতিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১৫ লাখ টাকা। প্রচার দেখে অনেকেই শেয়ার কেনার জন্য অর্থ বিনিয়োগ করেন।

মামালার বাদীর নাম না জানিয়ে সিআইডি বলছে, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে প্রথমে বাদী ১ লাখ টাকা এবং পরে বিভিন্ন সময়ে মোট ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। তার এক বন্ধুও ওই কোম্পানিতে ৯ লাখ টাকা দেন।

টাকা দেওয়ার সময় কোম্পানির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিশির আহমেদ, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হায়দার কবির মিথুন, পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বাহার, কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জাহিদ উপস্থিত ছিলেন।

গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিপরীতে কোম্পানি নিজস্ব রশিদ ও চেক দিলেও পরে আর ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন করে দেয়নি এবং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

সেখানে বলা হয়, বাদী পক্ষ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় থ্রি-স্টার হোটেল ও জমির শেয়ার বিক্রির নামে আনুমানিক ৪৭০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে ওই চক্র।

পরে কোম্পানির পরিচালনা কমিটির প্রায় সবাই আত্মগোপনে চলে যান এবং নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিগত কমিটির দায়ভার নতুন কমিটি নেবে না বলে তারা জানিয়ে দেয়। পরে ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে উত্তরা পূর্ব থানায় গ্রাহকদের পক্ষে বাদী মামলা করেন।

সিআইডি বলছে, মামলার পর থেকে মিথুনসহ কোম্পানির অনেককেই দেশের বাইরে চলে যান। রোববার ভোরে মিথুন দেশে এলে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করে।