কৃষিতে ‘ইউরোপের অভিজ্ঞ’ দেশের প্রযুক্তি সহায়তা স্বাগত জানাবে বাংলাদেশ: মন্ত্রী
কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক মনে করেন, ইউরোপের নরডিক দেশগুলোর মধ্যে ডেনমার্কের কৃষি প্রযুক্তি অনেক বেশি অগ্রসর।
কৃষি ও খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণে নরডিক দেশগুলো ইউরোপের অভিজ্ঞ মন্তব্য করে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, তারা যদি জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে চায় তাহলে বাংলাদেশে একে স্বাগত জানাবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার বনানীতে নরডিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রেশনের (গেইন) এক সিম্পোজিয়ামে তিনি এ কথা বলেন।
তিনটি নরডিক দেশ ডেনমার্ক, নরওয়ে ও সুইডেন দূতাবাসের সহযোগিতায় ‘ইনভেস্টমেন্ট ফর ক্যাটালাইজিং সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রেসিলিয়েন্ট ফুড সিস্টেম’ শীর্ষক এই সিম্পোজিয়াম হয়।
এতে বাংলাদেশে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ব্যবসায় বেসরকারি খাতের আরও বেশি অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে চলমান সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ২০২২ সালে বাংলাদেশ ডেনমার্কে একটা হর্টিকালচার মেলায় অংশ নিয়েছিল। সেখানে দেশীয় পণ্যের প্রদর্শনী হয়।
“নরডিক দেশগুলোর মধ্যে ডেনমার্কের কৃষি প্রযুক্তি অনেক বেশি অগ্রসরমান। এই মুহূর্তে কৃষিতে আমাদের খুব বেশি একটা বিদেশি অর্থায়নের প্রয়োজন নেই। এখন আমাদের দেশে কৃষিখাতে অনেক আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন তরুণ বিনিয়োগকারী যুক্ত হয়েছে। ডেনমার্ক যদি তাদের অভিজ্ঞতা, আবিষ্কার ও প্রযুক্তি দিয়ে সহযোগিতা করে তাহলে আমদের তরুণ প্রজন্ম আধুনিক কৃষির দিকে আরও বেশি আগ্রহী হবে।”
বাংলাদেশে অনেক কৃষিপণ্য উৎপাদন হলেও আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতার অভাবে এর বৈচিত্র্য ও মূল্য বাড়ানো যাচ্ছে না জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ফ্রান্সে আম ও আনারসের মিশ্রণের এক ধরনের জেলি হয়। সেই জেলি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশে রপ্তানি হয়। কিন্তু বাংলাদেশে ভালো আম ও ভালো আনারস থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের পণ্যের উৎপাদন নেই। ভবিষ্যতে এই দিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
নরডিক চেম্বারের সভাপতি তাহরিন আমান বলেন, নরডিক দেশগুলো বাংলাদেশের কৃষিখাতের টেকসই উন্নয়নে উদ্ভাবন, দায়িত্বশীল বাণিজ্য ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে চায়।
এতে অংশ নিয়ে ঢাকায় ডেনমার্কের অ্যাম্বাসেডর উইনি এস্টরাপ পিটারসন বলেন, “বাংলাদেশের খাদ্য ও কৃষি ও অ্যাকুয়াকালচার-খাতে আমিতো সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। খাদ্যনিরাপত্তা ও গ্রিন ভ্যালু চেইন নিয়ে বর্তমানে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে মতবিনিময় করছে।
গেইন- এর কান্ট্রি ডিরেক্টর রুদাবা খন্দকার বলেন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা একটি জটিল ও বহুমুখী প্রক্রিয়া। এখানে সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রয়োজন টেকসই বিনিয়োগ।
খাদ্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে আরলা ফুড, প্রাণ, তারাপ্যাক, আকিজ, কোরো, স্কয়ার, এসিআই, মেঘনা ও ইউনিলিভারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
