১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গণভবনের দখলের সঙ্গে বাস্তিল দুর্গ দখলকে ‘মেলালেন’ ফরাসি দূত

“যে মূল্যবোধের জন্য আপনারা লড়াই করছেন, সেটা আমাদের খুব পরিচিত,” বলেন তিনি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jul 2025, 12:51 AM

Updated : 26 Aug 2026, 01:22 PM

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবন দখলের সঙ্গে ফরাসির বিপ্লবের প্রাক্কালে বাস্তিল দুর্গ দখলের মিল থাকার কথা বলেছেন ঢাকায় ফরাসি রাষ্ট্রদূত মেরি মাসদুপুই।

রোববার ঢাকায় ফরাসি জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে এই মিল পাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আপনারা সবাই জানেন, ২৩৬ বছর আগে প্যারিসের জনগণ রাজনৈতিক বন্দিশিবির এবং রাজতন্ত্রের প্রতীক বাস্তিল দূর্গ দখল করেছিল। এটা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা পরে ফরাসি বিপ্লব হিসেবে পরিচিত পায়।

“ঘৃণিত শাসনের প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশে আপনারা গণভবন দখলে নিয়েছেন। এর প্রায় এক বছর হয়ে গেছে এবং খুব শিগগির ৫ অগাস্ট আপনারা এটা উদযাপন করবেন। যে মূল্যবোধের জন্য আপনারা লড়াই করছেন, সেটা আমাদের খুব পরিচিত।”

এরপর ফরাসি রাষ্ট্রদূত ইংরেজি থেকে সরে বাংলায় বলেন, “গণতন্ত্র মানে হচ্ছে স্বাধীনতা, সমতা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ ও অন্তর্ভুক্তি। 

“মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশ করবার অধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাও গণতন্ত্রের কঠিন পথে এগিয়ে যাবার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এবং অবশ্যই, এর সঙ্গে ন্যায়বিচারও থাকবে।”

গণতন্ত্র শক্তিশালী করার পথ যে মসৃণ নয়, সে দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “১৭৮৯ সালের পর ফ্রান্সে গণতন্ত্র সুসংহত করতে প্রায় ১০০ বছর সময় লেগেছে। আমার বিশ্বাস, আপনারা তার চেয়ে অনেক কম সময়ে তা অর্জন করতে পারবেন।”

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসা করলেও তাদের সামনের চ্যালেঞ্জ মনে করিয়ে দিয়ে মেরি মাসদুপুই বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার বিচক্ষণ এবং অসাধারণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ সত্যিকারের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। এই পথে অনেক বাধা আছে। তবে, সাহস ও সংকল্পের মধ্য দিয়ে নিঃসন্দেহে সেগুলো দূর হবে।

“আমরা বুঝতে পারি, চলমান পটপরিবর্তনের এই প্রেক্ষাপটে আমাদের ধৈর্য্যশীল হতে হবে। বড় রকমের দুর্নীতি এবং তা মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তার কারণে কিছু প্রকল্প পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”

বাংলাদেশে দুই দেশের যৌথ প্রকল্পগুলো চলমান রাখার উপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, জনগণের বৃহত্তর মঙ্গলের স্বার্থে আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।”

এক্ষেত্রে ফ্রান্সের সহযোগিতায় চলা ঢাকার মানুষের পানীয় জল সরবরাহে গন্ধর্বপুর ও সয়দাবাদ পানি শোধনাগার এবং চট্টগ্রামের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের কথা বলেন তিনি।

ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, গত ১০ বছর ধরে ফ্রান্স বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার এবং আমরা সেভাবে থাকতে চাই।

“আপনারা জানেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অভিযোজনে আমাদের যে গুরুত্বারোপ, সেটা আপনাদের দেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আপনাদের স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে উঠা সমাধানের বিষয় শুনে গোটা বিশ্ব উপকৃত হবে বলে আমার বিশ্বাস।”