Published : 12 May 2026, 05:34 PM
জুলাই আন্দোলনে যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদেরই স্বজনদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘সান্ত্বনা’ দেওয়ার ‘অভিনয় করেছেন’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার ঢাকার শেরেবাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “কীভাবে আপনারা দেখে অবাক হবেন—যাদেরকে তিনি হত্যা করেছেন, সেইসব শহীদদের পিতা-মাতাকে তিনি সান্ত্বনা দিচ্ছেন যে, তিনি খুঁজে বের করে তাদেরকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিবেন, সেই শহীদকে। অথচ তিনি ভালোভাবে জানেন যে তাদেরকে দুই-চার দিন আগেই হত্যা করা হয়েছে।”
স্পিকার বলেন, “অভিনয় পারদর্শী এই নেত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরকাল কলঙ্কিত হয়ে থাকবেন।”
স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জাতির সংগ্রামের স্মৃতিবিজড়িত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, “এই জাদুঘর যতদিন টিকে থাকবে, ততদিন এদেশের মানুষের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম লিপিবদ্ধ থাকবে।”
স্পিকার বলেন, “মাফিয়া শেখ হাসিনা তার খুনিদেরকে যে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন হত্যা করার জন্যে, সেই কল রেকর্ডও অবিকৃতভাবে এখানে সংরক্ষিত আছে।”
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী ‘মাফিয়া শেখ হাসিনার’ ভুয়া ও পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের নিপীড়ন, নৈরাজ্য ও হত্যাকাণ্ডের বিবরণ জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে ‘মুন্সিয়ানার সঙ্গে’ তুলে ধরা হয়েছে।
জাদুঘরের বিভিন্ন প্রদর্শনী দেখে মানুষ ‘চমৎকৃত’ ও ‘দুঃখবোধে আক্রান্ত’ হবেন মন্তব্য করে স্পিকার হাফিজ বলেন, তারা একই সঙ্গে ভবিষ্যতের লড়াইয়ের জন্য অনুপ্রাণিত হবেন।
তিনি বলেন, “এই জাদুঘর প্রমাণ করবে যে বাংলাদেশের মানুষ কোনো স্বৈরাচারকে সহ্য করে না, এবং বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য হাসি মুখে জীবন দিতে পারে।
“এই জাদুঘরে যে প্রবেশ করবে, তিনি অন্য ধরনের একজন অনুপ্রাণিত মানুষ হিসেবে বের হয়ে আসবেন।”
১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ‘অনন্য’ বলে মন্তব্য করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, “জুলাইযোদ্ধারা জাতির ভবিষ্যতের জন্য তাদের বর্তমানকে উৎসর্গ করেছেন।”
এসময় সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষে অথবা অগাস্টের শুরুতে উন্মুক্ত করা হবে।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর “ফ্যাসিজম থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার প্রতিবিম্ব”।
তিনি বলেন, “এই অভ্যুত্থানে বাংলার দামাল ছেলেরা দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নিজেদের বিসর্জন দিয়েছে। তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই জাদুঘর অনন্য নিদর্শন হয়ে থাকবে।”
পরিদর্শনের সময় স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সংস্কৃতি মন্ত্রী জাদুঘরের ‘লং ওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ অংশে ১৯৭১ থেকে ১৯৯১ সালের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার স্থিরচিত্র দেখেন।
তারা জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত আনাসের কবিতাসহ বিভিন্ন ম্যুরাল ও গ্রাফিতি, কোটা আন্দোলন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন, ২০২৪ সালের ১ থেকে ৩৬ জুলাই পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সারসংক্ষেপ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত নথি পরিদর্শন করেন।