Published : 24 Mar 2026, 06:18 PM
আকাশপথে যুদ্ধের হুমকি মোকাবেলা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা এবং নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কার্যক্রম চালুর দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন একজন আইনজীবী।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মঙ্গলবার ‘জনস্বার্থে’ ডাকযোগে ও ই-মেইলে এই নোটিস পাঠান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) এবং বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) কমান্ড্যান্টকে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে।
নোটিস পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনা এবং নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে তহবিল ও অবকাঠামো বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু করে নোটিসদাতাকে অবহিত করতে বলা হয়েছে সেখানে।
তা না হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন (পিআইএল) করা হবে বলে নোটিসে সতর্ক করা হয়েছে।
নোটিসে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র প্রতিবছর জাতীয় বাজেটের একটি বিশাল অংশ প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ দেয়। তাই করদাতাদের অর্থে পরিচালিত প্রতিরক্ষা বাহিনী আধুনিক বাইরের হুমকি থেকে প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সক্ষম কিনা, তা জানার বৈধ অধিকার নাগরিকদের রয়েছে।
“আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের ধরন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বর্তমান সময়ে প্রচলিত স্থলযুদ্ধের চেয়ে অত্যাধুনিক মিসাইল, যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন হামলার মাধ্যমে আকাশপথে আক্রমণই প্রধান হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে অত্যন্ত কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে।
“এ অবস্থায় বিদেশি হামলা হলে সামরিক বাহিনী নিজেদের ক্যান্টনমেন্ট রক্ষার পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিকদের জীবন রক্ষায় চরম হুমকিতে পড়বে। এমন বিপর্যয়ের কারণে সরাসরি জাতীয় সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হবে এবং দেশের মানুষকে জীবন দিয়ে এর মূল্য চুকাতে হবে।”
আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা, প্রতিবেশী মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঝুঁকির’ কথাও নোটিসে বলা হয়।
নোটিসদাতা বলেছেন, “প্রতিবেশী ভারত ইতোমধ্যে রাশিয়ার অত্যাধুনিক এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় ও স্থাপন করেছে। আঞ্চলিক প্রতিরোধ সক্ষমতা বজায় রাখতে বাংলাদেশেরও অবিলম্বে মার্কিন প্যাট্রিয়ট বা সমমানের উন্নত চীনা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে, বিদেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় এবং এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী প্রযুক্তিগত নির্ভরতা তৈরি হওয়ায় নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরিতে দেশীয় গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করা কৌশলগতভাবে অপরিহার্য।”
সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের জীবনের অধিকার এবং আইনের আশ্রয় লাভের অধিকারের নিশ্চয়তার কথা তুলে ধরে নোটিসে বলা হয়, “দেশের আকাশসীমা প্রতিরক্ষাহীন রাখা সরকারের সাংবিধানিক কর্তব্যের অবহেলা এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।”