Published : 17 Aug 2026, 06:58 PM
বিদেশে ব্যবহারের জন্য জন্ম, বিবাহ বা শিক্ষাগত সনদের মত গুরুত্বপূর্ণ নথি আইন অনুযায়ী নোটারাইজ ও অ্যাপোস্টিল করার পরও বাংলাদেশ মিশন থেকে পুনরায় সত্যায়নের বাধ্যবাধকতা কেন ‘বেআইনি ও কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
একইসঙ্গে হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশন অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সব কনস্যুলার ও দূতাবাসের জন্য অভিন্ন সার্কুলার ও নীতিমালা কেন জারি করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এক রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ রুল জারি করে।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দুই বিভাগের দুই সচিবকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নূরে আলম গত ২৯ জুলাই ‘জনস্বার্থে’ এ রিট আবেদন করেন।
তার আইনজীবী ইশরাত হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আইন অনুযায়ী সরকারি ও আইনি দলিল অ্যাপোস্টিল করার পরও অনেক সময় বাংলাদেশ মিশন থেকে পুনরায় সত্যায়ন করতে বলা হয়। এর ফলে একই নথির পেছনে একাধিক সরকারি দপ্তর ও মিশনে ঘুরে বারবার অর্থ ও সময় ব্যয় করতে গিয়ে বাস্তবিক অর্থেই আর্থিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।”
এই জটিলতায় প্রবাসী শ্রমিক, শিক্ষার্থী, অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তি এবং প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “কোনো কোনো দেশের দূতাবাস বাসস্থান থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় যাতায়াত, আবাসন, কর্মস্থল থেকে ছুটি নেওয়া এবং মূল নথি কুরিয়ারে পাঠানোর নানা ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব প্রশাসনিক জটিলতায় অনেক ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ বা মাস পার হয়ে যায়, যার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বা চাকরিতে যোগদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে বিলম্বের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।”
রিট আবেদনে বলা হয়, আইন মন্ত্রণালয়ের ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ও ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখের দুটি সার্কুলারে অ্যাপোস্টিল পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে সেগুলোর প্রয়োগ হচ্ছে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও এ বিষয়ে তথ্য দেওয়া রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন দেশের কনস্যুলার ও দূতাবাসে ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম চালু থাকায় প্রবাসীরা বিভ্রান্তিতে পড়ছেন।
একটি নথির জন্য ঠিক কী ধরনের সত্যায়ন প্রয়োজন, তা সাধারণ মানুষ আগে থেকে নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন না। তাদের সংশ্লিষ্ট মিশনের ওয়েবসাইটের তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সেসব ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ না থাকায় বিভ্রান্তি আরও বাড়ে।
নথি সত্যায়ন নিয়ে এই ‘দ্বৈত নীতি’ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা ওই দুটি এসআরও বাস্তবায়নে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে বিবাদীদের কাছে সে বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে।