১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩
জন্ম-বেড়ে ওঠা ফেনীতে। লেখালেখির শুরু দৈনিক পত্রিকায়। মূলত ‘গ্রন্থ সমালোচনা’ করেন। লেখালেখিতে কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতা এবং জীবন তাঁর আগ্রহের জায়গা। প্রায় দু্ই দশক ধরে চাকরি করছেন আর্থিক খাতে।
আমরা নিশ্চিত জানি, দুই ভাষা, দুই দেশ ও দুই সংস্কৃতির মধ্যে যে-জীবন তিনি এতকাল ধরে নির্মাণ করেছেন, মৃত্যুর পরও তার দরজা খোলা থাকবে সবদেশের পাঠকের জন্য। কেতকী আর লিখবেন না, কিন্তু তাঁর লেখা আমাদের সঙ্গে কথা বলতে থাকবে। তাঁরই একটি বইয়ের নাম ধার করে বলা যায়—লেখায়, চিন্তায় ও প্রশ্নে তিনি যে ভাবনার ভাস্কর্য নির্মাণ করে গেলেন, তার মধ্যেই কেতকী কুশারী ডাইসন থেকে যাবেন।
তার জীবনে সুন্দরী নারী এসেছে। তাকে চেয়েছে এমন নারীও এসেছে। এমন নারী এসেছে যার শরীরের দরজা তার জন্য খোলা ছিল। অথচ আশ্চর্য, সহজে পাওয়া যায় এমন জিনিসের প্রতি ধ্রুবর আকর্ষণ বেশিদিন থাকে না। এ-নিয়ে একদিন তার স্ত্রী অহনা বলেছিল, —তোমার সমস্যা জানো কী?
তাঁদের মধ্যে সংঘাত ছিল, মতপার্থক্য ছিল, টানাপোড়েন ছিল, তবু দুজনেরই নিজস্ব পৃথিবীও ছিল। তাঁরা পাশাপাশি থেকেছেন, আবার নিজেদের মতোও থেকেছেন। এটাই সম্ভবত ‘যৌথজীবন’ শব্দটির সবচেয়ে গভীর অর্থ। যৌথ মানে এক হয়ে যাওয়া নয়। যৌথ মানে দুটি স্বতন্ত্র নদীর পাশাপাশি প্রবাহিত হওয়া। কোথাও তারা মিশবে, কোথাও দূরে সরে যাবে, কোথাও আবার একই ভূখণ্ডকে দুই দিক থেকে ছুঁয়ে যাবে।
কিন্তু ওই শিলাইদহের খোপ দিয়ে দেখে রবীন্দ্রবিচারের বিপদের দিকটিও তাঁর দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। রবীন্দ্র-সংকীর্ণায়ন রবীন্দ্রনাথকে খারিজ করারই প্রাথমিক পদক্ষেপ। সেটি তিনি যাদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁরা বিলক্ষণ জানেন। প্রশ্ন হলো নাভিন সেটি বোঝেন কি না।
জীবনানন্দের ব্যক্তিগত ভাবনার অনেকখানি জুড়ে ছিল দারিদ্র, বেকারত্ব, প্রেমানুভূতি, বিবাহিত জীবনের হতাশা নিয়ে ভাবনাচিন্তা। নানাজনকে লেখা খসড়া চিঠিপত্রের দেখাও মেলে ডায়েরিতে। আছে রোজকার বাজারঘাটের তালিকা। তেল, নুন, দুধ সহ হিসাবের খরচ।
ছোটবেলা থেকে অনেকটা নিঃসঙ্গতার মধ্যে বেড়ে ওঠেন পো। তখনই তাঁর মধ্যে এক অন্তর্লীন জটিল মনস্তত্ব দানা বেঁধে ওঠে। চারদিকের অবক্ষয়, মনোবিকলন, আর্থিক দৈন্যদশার চিত্র তাঁকে এতটাই বিমূঢ় করে রেখেছিল, তিনি যেন হয়ে উঠেছিলেন অনেকটা নিস্পৃহ স্বভাবের।