০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কবি-গীতিকার, সাংবাদিক ও শিক্ষক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। ‘আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট: গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিস ফর ইমপ্লিমেন্টেশন’ বিষয়ে ডিপ্লোমা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ভার্ড এক্স (অনলাইন প্রোগ্রাম) থেকে। পাবনার মাশুন্দিয়া-ভবানীপুর ডিগ্রি কলেজে বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করছেন।
সেশনজট নিরসনের কথা বলে এসএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নতুন সংকট ডেকে আনছে। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়িয়ে, মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে এবং ঘন ঘন নীতি পরিবর্তনের ‘গিনিপিগ’ বানানোর অভিযোগ উঠেছে।
লটারি পদ্ধতি বন্ধ করে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্তে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে কোচিং বাণিজ্য ও শিক্ষা বৈষম্য। প্রশ্ন উঠছে—স্বচ্ছতার নামে শিশুদের শৈশব কি উৎসর্গ করা হচ্ছে?
ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন সিলেবাসের চাপ, নাকি গত বছরের ফেলে আসা বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি? বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে এমন দ্বিমুখী সংকটে শিক্ষার্থীরা। এই অসময়ে পরীক্ষা আয়োজন কি শিশুদের ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না?
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগকে কেউ বলছেন ধর্মবিরোধী, কেউ বলছেন বিলাসিতা। গবেষণা ও বিশ্ব অভিজ্ঞতা বলছে—সংগীত শিক্ষা শিশুর মনোযোগ, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস গঠনে সহায়ক।
দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। কিন্তু বর্তমানে এর যে মানহীনতা রয়েছে, তা দূর না করতে পারলে জনশক্তি সৃষ্টি নয়, বরং অপচয়ই ঘটবে।
মাইলস্টোন স্কুলে কোচিং বাধ্যতামূলক করার যে বিতর্ক এখন আলোচিত হচ্ছে, সেটি আসলে একটি সামগ্রিক সমস্যার প্রতিচ্ছবি, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক ভেঙে পড়ছে আর শিক্ষা পরিণত হচ্ছে বাণিজ্যে।