কবি শঙ্খ ঘোষ জ্ঞানপীঠ সম্মানে ভূষিত হলেন
'এই তো জানু পেতে বসেছি, পশ্চিমে
আজ বসন্তের শূন্য হাত-
ধ্বংস করে দাও আমাকে যদি চাও
আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক।'
'বাবরের প্রার্থনা' কবিতায় কবি শ্রী শঙ্খ ঘোষ চিরন্তন বাঙালির 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে' আর্তি তুলে ধরেছেন। বাংলা কবিতায় সমাজ ও সেই সমাজের মানুষের কথা ফুটে উঠেছে শ্রদ্ধেয় কবির কলমে। ভারতীয় সাহিত্যের সর্বোচ্চ পুরস্কার জ্ঞানপীঠ কবির হাতে তুলে দিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জী। রাজধানী নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট লাইব্রেরি হলে সদ্য অনুষ্ঠিত জ্ঞানপীঠ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে মাননীয় রাষ্ট্রপতি বলেন, '"রবীন্দ্র সাহিত্যের একনিষ্ঠ সাধক, গবেষক, বাংলা ভাষার অধ্যাপক কবি শ্রী শঙ্খ ঘোষ ভারতীয় সাহিত্যের বহুমুখী প্রতিভার প্রতিনিধি।" বাংলা সাহিত্যে ও বাংলা কবিতায় কবি শ্রী শঙ্খ ঘোষের অবদান এইভাবেই বর্ণনা করলেন মাননীয় রাষ্ট্রপতি। তিনি আরো বলেন, "শঙ্খ ঘোষের কবিতা সমস্ত বিতর্কবাদের উর্ধে দেশকালের কথা বলে। সময়ের ছাপ রেখে যায়।"
বাবরের প্রার্থনা কাব্যগ্রন্থের জন্য কবি শ্রী শঙ্খ ঘোষ ১৯৭৭ সালে সাহিত্য একাডেমী সম্মানে ভূষিত হন। কন্নড় ভাষার নাটক 'তালেডানা'-র বাংলা অনুবাদ 'রক্তকল্যাণ' করে তিনি ১৯৯৯ সালে পুনরায় সাহিত্য একাডেমী সম্মানে ভূষিত হন। ২০১১ সালে কবিকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়।
'আত্মঘাতী ফাঁস থেকে বাসি শব খুলে এনে কানে কানে প্রশ্ন করো তুমি কোন দল
রাতে ঘুমোবার আগে ভালবাসার আগে প্রশ্ন করো তুমি কোন দল'
পার্লামেন্ট লাইব্রেরি হলে হিন্দি টানে উচ্চারিত এই কবিতার অংশটুকু শুনেই হাততালিতে ফেটে পড়ল সভাঘর। বাংলার কবি শ্রদ্ধেয় শঙ্খ ঘোষের ৫২ তম জ্ঞানপীঠ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল বাঙালিই সেদিন প্রিয় কবি ও বাংলা ভাষার জন্য গর্ব বোধ করছিলেন।
মাননীয় রাষ্ট্রপতি শ্রী প্রণব মুখার্জীর অভিভাষণেও সেই আবেগ প্রকাশিত হয়েছিল। শ্রী প্রণব মুখার্জী বলেছিলেন, আমার ভাল লাগল, এ বছর জ্ঞানপীঠ সম্মান অর্জন করেছে যে ভাষা তা আমার মাতৃভাষা বাংলা।
" এই পুরস্কার নিতে আমি লজ্জা বোধ করছি। আমি মনে করি বাংলা ভাষার অনেক কৃতি কবি রয়েছেন।" শ্রদ্ধেয় কবির এই অসাধারণ উক্তি বাংলায় লেখালেখি করেছেন বা এখনও করে চলেছেন, নবীন প্রবীন সকল কবি ও সাহিত্যিকদের জন্যই এক বিরল সম্মান।
কবি সুধীনন্দ্রনাথ দত্তের 'অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে' উল্লেখ করে শ্রী ঘোষ ভারতে ধর্ম নিরপেক্ষতার ভাবাবেগ নিয়ে যে সামাজিক অস্থিরতা বর্তমান সময়ে তৈরি হয়েছে সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। কবি মনে করেন অসহিষ্ণুতা ও হিংসা যে কোন সমাজকেই এক অন্ধকারময় ভবিষ্যৎ-এর দিকে ঠেলে দেবে।
