Published : 08 Nov 2025, 04:47 PM
চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের ধারাবাহিকতায় লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থর গবেষণা ‘সুলতানের কৃষি জিজ্ঞাসা’ শীর্ষক পাণ্ডুলিপি উপস্থাপন ও পাঠ পর্যালোচনার অনুষ্ঠান হয়েছে।
দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড এবং দুনিয়াদারি আর্কাইভের যৌথ আয়োজনে শুক্রবার বিকেলে ইউপিএলের গ্রিন রোডের কার্যালয়ে এই পাঠ পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন শিল্প ইতিহাসবিদ ও পরিবেশ আন্দোলন সংগঠক আমিরুল রাজিব।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফিরদৌস আজিম বলেন, “সুলতানের শিল্পকর্ম ও কাজের মধ্য দিয়ে তাকে চিনেছি। তার বোহেমিয়ান লাইফস্টাইলের সাথে তার চিত্রকর্মের যোগসূত্র আছে। নিউ লিব্যারাল এ যুগে সমসাময়িক শিল্পীদের শিল্পবাজার নিয়ে চিন্তা করতে হয়। নিজেকে এই ‘চিত্র বাজারে’ উপস্থাপন করতে হয়। নয়া উদারবাদী অর্থনীতির কারণে আমাদের কৃষি, জমির ঊর্বরতা কেবল ধ্বংস হচ্ছে না, এটি আমাদের শিল্পকলা, লেখালেখি, সবক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে। পাভেল পার্থ তার পাণ্ডুলিপিতে বলেছেন, বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানির পুরস্কারের সাথে শিল্পকে যুক্ত করা হচ্ছে।
“এর কারণ এটাও যে, শিল্পীর জীবন-জীবিকাও শিল্পের সাথে যুক্ত। তারই প্রতিচ্ছবি আমরা এখনকার শিল্পীদের চিত্রকর্মেও দেখতে পাই। এই পাণ্ডুলিপি পড়ে মনে হয়েছে, যে গবেষণা করা হয়েছে, সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, এগুলোকে সুলতানের চিত্রকর্মের সাথে আরও সূক্ষ্মভাবে গাঁথতে হবে। না হলে ‘অপরকরণ’ করার শঙ্কা থেকে যায়।”
শিল্প সমালোচক মোস্তফা জামান বলেন, “পাণ্ডুলিপিতে সুলতানের কৃষকেরা কি ধানের ভাত খায় এটি আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও আলোচনা মনে হয়েছে, এবং তার চিত্রে কৃষিজমিতে কোনো আইল (সীমারেখা) নাই, তা বিশেষ চিন্তাভাবনা থেকে ফুটে উঠেছে। তার শিল্প কর্মে নারীদের মাথায় ঘোমটা নাই, কারণ কর্মী নারীদের চিত্রে আঁকতে গেলে তার মাথায় ঘোমটা থাকা বাস্তবসম্মত নয়। এভাবে সুলতানের শিল্প দেখার দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি। আবার, সুলতানের চিত্রে পেশির চিত্রায়ণ নিয়ে আলাপ করা হয়। এগুলো বৃহৎ পরিমণ্ডল থেকে দেখা দরকার। সুলতান কৃষকের পেশি, পেশিশক্তির দৃষ্টিতে নয়, বরং সমগ্রতার জায়গায় দেখিয়েছেন। সুলতানের কাজে কোনো দ্ব্যর্থকতা ছিল না। সুলতান যে জীবনটি দেখেছেন, তা ই তিনি এঁকেছেন, তাই মাস্টারপিস। সুলতানের কাজে চিত্রটি নয়, মানুষ-প্রকৃতি হলো আদিঅন্ত।”
শিল্পী ও শিক্ষক ঢালী আল মামুন বলেন, সুলতান যখন তার শিল্পের বিষয় নির্বাচন করেছেন তা ছিল তার ভেতরকার একটি বয়ান। তিনি কৃষিজীবী মানুষকে উপপাদ্য করেছেন তার শিল্পের বিষয় হিসেবে। তা দিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাকাঠামো বোঝা যায়। একইসাথে এই বইয়ে যেসব বিষয় বলা হয়েছে, সেগুলো বর্তমানের নয়া উদারবাদী অর্থনীতির বাস্তবতায় কেবল আমাদের কৃষি ব্যবস্থা নয়, গোটা পৃথিবীর একটি বাস্তবতা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ নিজার বলেন, শিল্পকে বিভিন্ন মাত্রা ও দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবার ও বুঝবার জন্য পাভেল পার্থর কাজটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ। পাভেল পার্থ যে মাত্রায় সুলতানের কাজের আলোচনা করেছেন তা প্রথাগত শিল্প আলোচনা বা সমালোচনা নয়।
“সুলতান আমাদের সাংস্কৃতিক পঠন-পাঠনের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন। ফলে এই বইটির গুরুত্ব এই মুহূর্তে যতটা না, সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও শিল্পকলার ইতিহাস জানার জন্য এই বইটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে ভবিষ্যতে পাঠের জন্য।”