২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ফেলে আসা দেশ, ফিরে দেখা শহর: মোহিনী মুম্বাই ও বাঙালনামা

তবু তাঁদের অনুসন্ধানে গভীর একটি ঐক্য রয়েছে। ফারুক মঈনউদ্দীন বর্তমান নগরজীবনের মধ্যে মানুষের গতি, শ্রম ও টিকে থাকার শক্তি খুঁজেছেন; তপন রায়চৌধুরী অতীতের সমাজ ও স্মৃতির মধ্যে মানুষের পরিচয়, সহাবস্থান ও বিচ্ছেদের অর্থ অনুসন্ধান করেছেন। আমার কাছে মোহিনী মুম্বাই জীবনের গতি, আর বাঙালনামা জীবনের গভীরতা।

আমজাদ আল মামুন আমজাদ আল মামুন

Published : 03 Sep 2026, 04:11 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:53 AM

কিছু বই আমাদের নতুন কোনো শহরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়, কিছু বই ফিরিয়ে নিয়ে যায় হারিয়ে যাওয়া স্বদেশে। ফারুক মঈনউদ্দীনের মোহিনী মুম্বাই এবং তপন রায়চৌধুরীর বাঙালনামা আমার কাছে তেমনই দুটি বই। একটি আমাকে নিয়ে যায় এক দুরন্ত মহানগরের গতিময় জীবনে, অন্যটি ফিরিয়ে নেয় স্মৃতি, ইতিহাস ও শিকড়ের গভীরে। আপাতদৃষ্টিতে বই দুটি ভিন্ন প্রকৃতির হলেও তাদের অন্তর্লীন অনুসন্ধান এক—পরিবর্তনশীল সময়ের মধ্যে মানুষ কীভাবে বেঁচে থাকে এবং নিজের পরিচয় নির্মাণ করে।

ফারুক মঈনউদ্দীনের মোহিনী মুম্বাই কোনো উপন্যাস নয়, নিছক পর্যটকের ভ্রমণবৃত্তান্তও নয়। কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন মুম্বাইয়ে বসবাসের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা এই বইয়ে তিনি শহরটিকে দেখেছেন একজন নিবিড় পর্যবেক্ষক ও সক্রিয় বাসিন্দার চোখে। তাই তাঁর মুম্বাই দূর থেকে দেখা ঝলমলে কোনো দৃশ্য নয়; এটি প্রতিদিনের শ্রম, ক্লান্তি, আকাঙ্ক্ষা, সাফল্য ও ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে চলমান এক বিশাল মানবজীবন।

মোহিনী মুম্বাইর কেন্দ্রীয় চরিত্র যেন মুম্বাই নিজেই। লোকাল ট্রেনের অবিশ্বাস্য ভিড়, অফিসমুখী মানুষের ছুটে চলা, সমুদ্রতীরের উদার বাতাস, চলচ্চিত্রজগতের চাকচিক্য, বহুতল ভবনের ছায়ায় ছড়িয়ে থাকা দারিদ্র্য—সব মিলিয়ে শহরটি একই সঙ্গে সুন্দর ও কঠোর। এখানে ঐশ্বর্যের পাশে বঞ্চনা, স্বপ্নের পাশে সংগ্রাম এবং ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতার পাশে বিপুল জনসমুদ্র।

লেখক শহরটিকে শুধু দেখেন না; এর ছন্দের মধ্যে প্রবেশ করেন। মুম্বাই মানুষকে সহজ কোনো আশ্বাস দেয় না; প্রতিনিয়ত তার যোগ্যতার পরীক্ষা নেয়। তবু এই শহরেই অসংখ্য মানুষ স্বপ্ন দেখে, পরিশ্রম করে এবং নিজের একটি অবস্থান তৈরি করতে চায়। এখানেই মুম্বাইয়ের মোহিনীশক্তি—সে মানুষকে টানে, কষ্ট দেয়, কখনো গিলে খায়; তবু সহজে তাকে ছেড়ে যেতে দেয় না।

মুম্বাই এখানে স্মৃতি ও আবেগের শহরও। মানুষের স্মৃতি যে রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক সীমানা মানে না, তার চমৎকার কিছু দৃষ্টান্ত ছড়িয়ে আছে শহরটির ইতিহাসে। বিজ্ঞানী, চলচ্চিত্র ও সংগীতের বিখ্যাত মানুষদের পাশাপাশি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশাররফের শৈশবের স্মৃতিও এই শহরের সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক বৈরিতা যত গভীরই হোক, জন্মস্থান ও শৈশবের প্রতি মানুষের আকর্ষণ তার চেয়েও পুরোনো। মুম্বাই যেন রাষ্ট্রের মানচিত্রের চেয়ে মানুষের স্মৃতির মানচিত্রকে বড় করে তোলে।

এই মানবিকতার আরেকটি দৃষ্টান্ত মকরসংক্রান্তি। আকাশ ভরে যায় ঘুড়িতে, শহর যেন কিছুক্ষণের জন্য নিজের ব্যস্ততা ভুলে যায়। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেই লেখকের চোখ পড়ে অন্য এক সত্যের দিকে—ঘুড়ির সুতোয় আহত হয় পাখি। একদিকে রঙিন আকাশ, অন্যদিকে আহত প্রাণ; একদিকে উৎসব, অন্যদিকে তার নিষ্ঠুর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। আহত পাখিদের চিকিৎসা, পাখিপ্রেমীদের প্রতিবাদ এবং উৎসবের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলার মধ্য দিয়ে মুম্বাইয়ের আরেকটি মুখ দেখা যায়। শহরটি একরঙা নয়—তার সৌন্দর্যের ভেতরে ক্ষত আছে, আবার ক্ষতের পাশেই আছে বিবেক।

আরও বিস্ময়কর মুম্বাইয়ের আইনের গল্পগুলো। ‘সিকি শতাব্দীর অগ্রিম টিকিট’ প্রথমে রূপকথার মতো শোনায়। একজন মানুষ পঁচিশ-ছাব্বিশ বছর আগে কেনা ট্রেনের টিকিট হাতে নিয়ে হাজির হন রেলওয়ের কাছে। পুরোনো নিয়মে টিকিটের কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ ছিল না; নতুন নিয়ম হয়েছে পরে। ফলে বহু পুরোনো একটি টিকিট হয়ে ওঠে রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের এক অদ্ভুত দলিল।

এখানে নাগরিক সহজে নিজের অধিকার ছেড়ে দেয় না। ছোট একটি টিকিট নিয়েও সে প্রশ্ন তোলে, নিয়ম খোঁজে, যুক্তি দাঁড় করায়। একই বিষয় আরও তীব্রভাবে আসে ‘জাস্টিস ডিলেইড নট ডিনাইড’ প্রসঙ্গে। রাস্তার ছোট একটি গর্তে পড়ে আহত এক আইন শিক্ষার্থী ক্ষতিপূরণের মামলা করেন পৌর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। আমাদের চারপাশে এমন অব্যবস্থাপনা এত পরিচিত যে আমরা প্রায় নিয়তির অংশ হিসেবেই মেনে নিই। কিন্তু সেই তরুণ তা মানেননি। তাঁর ব্যক্তিগত আঘাত হয়ে ওঠে নাগরিক জবাবদিহির প্রশ্ন।

মোহিনী মুম্বাইর গদ্যের একটি বড় বৈশিষ্ট্য এখানেই—বড় কথা ছোট ঘটনার ভেতর দিয়ে বলা। মকরসংক্রান্তির ঘুড়ি, আহত পাখি, পুরোনো ট্রেনের টিকিট কিংবা রাস্তার গর্ত—কোনোটিই প্রথম দর্শনে মহৎ ইতিহাসের উপাদান নয়। অথচ এগুলো পাশাপাশি রাখলে একটি শহরের নাগরিক সংস্কৃতির ছবি তৈরি হয়। বোঝা যায়, মহানগরকে বুঝতে তার রাজনীতি ও অর্থনীতির পাশাপাশি ফুটপাত, আদালত, রেলস্টেশন, উৎসব এবং মানুষের দৈনন্দিন আচরণের দিকেও তাকাতে হয়।

সম্ভবত এই বৈপরীত্যের কারণেই মুম্বাই ‘মোহিনী’। মোহিনী মানে এখানে নিখুঁত সুন্দর নয়; বরং এমন এক আকর্ষণ, যার দিকে তাকালে চোখ সরানো কঠিন। পুরোনো স্মৃতির পাশাপাশি আধুনিকতার প্রচণ্ড গতি, প্রশাসনিক উদাসীনতার পাশে জেদি নাগরিক, নিষ্ঠুরতার পাশে মায়া—সব মিলিয়েই শহরটির রহস্য।

ফারুক মঈনউদ্দীনের গদ্য সংযত, স্বচ্ছ ও পর্যবেক্ষণসমৃদ্ধ। তাঁর বর্ণনায় ইতিহাস, অর্থনীতি, সমাজ ও মানুষের ব্যক্তিগত জীবন পরস্পরের সঙ্গে মিশে যায়। কোথাও নরম রসিকতা, কোথাও বিষণ্নতা, আবার কোথাও একজন অনুসন্ধিৎসু মানুষের বিস্ময়। শহরের দৃশ্যমান রূপের আড়ালে তিনি তার অন্তর্গত হৃদস্পন্দনটি ধরতে চেয়েছেন।

আমেরিকায় নতুন অভিবাসী হিসেবে জীবন শুরু করার পর মোহিনী মুম্বাইর অনেক অভিজ্ঞতা আমার কাছে বিশেষভাবে পরিচিত মনে হয়েছে। শহর আলাদা, ভাষা আলাদা, সামাজিক নিয়মও আলাদা; কিন্তু নতুন একটি নগরের গতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চাপ প্রায় একই। অপরিচিত রাস্তাঘাট, কর্মজীবনের ব্যস্ততা এবং প্রতিদিন নতুন করে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা—এসবের মধ্যে মানুষ একই সঙ্গে ক্লান্ত ও জীবন্ত থাকে। ফারুক মঈনউদ্দীনের মুম্বাই তাই আমার কাছে কেবল একটি ভারতীয় মহানগর নয়; এটি যেকোনো অভিবাসী মানুষের নতুন শহরে নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার প্রতীক।

মোহিনী মুম্বাই যেখানে বর্তমানের প্রবল গতির কাহিনি, তপন রায়চৌধুরীর বাঙালনামা সেখানে স্মৃতির ভেতর দিয়ে হারিয়ে যাওয়া এক বাংলায় ফিরে যাওয়ার যাত্রা। পরিবার, শৈশব, বরিশাল-কুমিল্লার মানুষ, দেশভাগ—সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত স্মৃতি এখানে ক্রমশ একটি সময়ের ইতিহাস হয়ে ওঠে। বিষাদের পাশাপাশি আছে অসাধারণ রসবোধ ও আত্মপরিহাস। তাই বাঙালনামা শুধু আত্মজীবনী নয়; স্মৃতির আয়নায় দেখা একটি হারিয়ে যাওয়া বাঙালি জীবনের অন্তরঙ্গ দলিল।

বাঙালনামার সুবাদে বাংলাদেশের পাঠকের কাছে তপন রায়চৌধুরী যেন আরও খানিকটা আপন। বিশেষ করে বরিশালের মানুষের কাছে তাঁর পরিচয় শুধু খ্যাতিমান ইতিহাসবিদের নয়—তিনি ‘আমাগো বরিশাইল্যা তপন রায়’! এর কারণও গভীর। তাঁর কাছে বরিশাল নিছক নস্টালজিয়া ছিল না; শৈশবের আলো-হাওয়া, মানুষজন, খুনসুঁটি ও স্মৃতি ছিল তাঁর সারা জীবনের মানসিক রসদ। সেই স্মৃতির পথ ধরেই ফিরে আসে বরিশালের মানুষ ও ইতিহাস—এমনকি শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের মতো ব্যক্তিত্বও।

১৯২৬ সালে কুমিল্লা শহরে মাতুলালয়ে তপন রায়চৌধুরীর জন্ম। তবে তাঁর শিকড় ছিল বরিশালের কীর্তিপাশায়, আর শৈশব-কৈশোরের স্মৃতির বড় অংশ জুড়ে ছিল বরিশাল। পরিবার, জমিদারবাড়ি, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক, প্রতিবেশী, হিন্দু-মুসলমানের সামাজিক সম্পর্ক, আচার-অনুষ্ঠান, খাদ্যাভ্যাস এবং বিচিত্র সব মানুষের মধ্য দিয়ে বাঙালনামায় একটি হারিয়ে যাওয়া পূর্ববাংলা আমাদের সামনে জীবন্ত হয়ে ওঠে। এ ইতিহাস কেবল বড় ঘটনা ও বিখ্যাত ব্যক্তিদের নয়; সাধারণ মানুষের জীবনযাপন, সম্পর্ক, দুর্বলতা, উদারতা ও সংকীর্ণতারও ইতিহাস।

তবে এই স্মৃতির জগৎ সম্পূর্ণ শান্ত বা আদর্শায়িত নয়। এর মধ্যে শ্রেণিবৈষম্য, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দেশভাগের গভীর ক্ষতও রয়েছে। তপন রায়চৌধুরী অতীতকে নিছক নস্টালজিয়ার আবরণে ঢেকে দেননি। তিনি যেমন সহাবস্থানের সৌন্দর্য স্মরণ করেছেন, তেমনি সমাজের ভেতরে জমে থাকা বিভাজন ও নিষ্ঠুরতার কথাও বলেছেন। ফলে তাঁর পূর্ববাংলা একই সঙ্গে মায়াময় ও দ্বন্দ্বময়।

দেশভাগে মানুষ শুধু বসতভিটা হারায় না; হারায় পরিচিত সামাজিক জগৎ ও মানসিক আশ্রয়। চেনা স্থান যখন অন্য একটি দেশের অংশ হয়ে যায়, তখন নিজের শৈশবও যেন দূরবর্তী ভূগোলে নির্বাসিত হয়। বাঙালনামার গভীরে এই বিচ্ছিন্নতার বেদনা আছে, কিন্তু লেখক তাকে উচ্চকণ্ঠ আবেগে নয়, প্রজ্ঞা, সংযম ও রসবোধে ধারণ করেছেন।

প্রবাসী পাঠক হিসেবে এই জায়গাটিই আমাকে বিশেষভাবে স্পর্শ করে। দূরের দেশে বসবাস করলে মানুষ বুঝতে পারে, স্বদেশ কেবল একটি মানচিত্রের নাম নয়। পরিচিত খাবারের গন্ধ, ভাষার বিশেষ উচ্চারণ, পারিবারিক গল্প, শৈশবের কোনো দৃশ্য কিংবা হারিয়ে যাওয়া মানুষের স্মৃতিও স্বদেশের অংশ। বর্তমানের জীবন যতই বিস্তৃত হোক, অতীত নীরবে তার সঙ্গে হেঁটে চলে। তপন রায়চৌধুরীর স্মৃতির পূর্ববাংলা তাই আমার নিজের ফেলে আসা স্থান ও মানুষের কথাও মনে করিয়ে দেয়।

পরবর্তী সময়ে তাঁর জীবন কলকাতা, দিল্লি ও অক্সফোর্ড পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। তিনি ইতিহাসবিদ হয়ে উঠেছেন, নানা দেশ ও সমাজ দেখেছেন; কিন্তু পূর্ববাংলার হারানো ভূগোল তাঁর ভেতর থেকে মুছে যায়নি। ফলে বাঙালনামা একদিকে ব্যক্তিগত জীবনবৃত্তান্ত, অন্যদিকে বিশ শতকের বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রূপান্তরের দলিল।

মোহিনী মুম্বাই ও বাঙালনামার লেখকদের মধ্যে বয়সে প্রায় এক প্রজন্মের ব্যবধান। তাঁদের অভিজ্ঞতার ভূগোল ও রচনার ধরনও আলাদা। তবু তাঁদের অনুসন্ধানে গভীর একটি ঐক্য রয়েছে। ফারুক মঈনউদ্দীন বর্তমান নগরজীবনের মধ্যে মানুষের গতি, শ্রম ও টিকে থাকার শক্তি খুঁজেছেন; তপন রায়চৌধুরী অতীতের সমাজ ও স্মৃতির মধ্যে মানুষের পরিচয়, সহাবস্থান ও বিচ্ছেদের অর্থ অনুসন্ধান করেছেন।

আমার কাছে মোহিনী মুম্বাই জীবনের গতি, আর বাঙালনামা জীবনের গভীরতা।

অভিবাসী জীবনে এই দুই অভিজ্ঞতা পাশাপাশি থাকে। নতুন দেশে টিকে থাকতে বর্তমানের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে হয়, আবার নিজের পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখতে ফিরে তাকাতে হয় অতীত ও শিকড়ের দিকে। কেবল ছুটে চললে মানুষ নিজের উৎস ভুলে যায়, আর কেবল অতীতে আবদ্ধ থাকলে বর্তমান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই দুই বই যেন সেই দুই প্রান্তের মধ্যে একটি মানবিক সেতু নির্মাণ করে।

শেষ পর্যন্ত তাই বই দুটি পড়তে পড়তে নিজের জীবনকেও যেন দুইভাবে পড়া হয়। একদিকে ছুটে চলা শহর, অন্যদিকে ফিরে দেখা স্বদেশ; একদিকে বর্তমানের গতি, অন্যদিকে স্মৃতির গভীরতা। আর তাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে মানুষ—ছুটে চলে, ফিরে তাকায় এবং নিজের পরিচয় খুঁজে ফেরে।