১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্তকে স্মরণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের এ আয়োজনে মূল আকর্ষণ ছিল শত শিল্পীর কণ্ঠে ‘কান্ডারি হুঁশিয়ার’ গান।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Aug 2026, 02:01 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:55 PM

নানা আয়োজনে স্মরণ করা হলো বাংলা সাহিত্যের তিন কবি— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও সুকান্ত ভট্টাচার্যকে।

শনিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্ত স্মরণ’ শিরোনামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদ। 

বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এ অনুষ্ঠানে মূল আকর্ষণ ছিল শত শিল্পীর কণ্ঠে ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানটি। নৃত্যশিল্পী অনিক বসুর পরিচালনায় ‘স্পন্দনের’ নৃত্যশিল্পীরা এতে অংশগ্রহণ করেন। ‘গেন্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলা’ ও ‘শিল্পবৃত্তের’ শিশু-কিশোরও ছিল।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি শিল্পী কাজী মিজানুর রহমান বলেন, “বর্তমান সময়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংকটে রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্তের চেতনা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। সংকটকালে রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্তের কালজয়ী পরিবেশনা আজও আমাদের আলোর পথ দেখায়।”

‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানটি রচনার সময়েই কাজী নজরুল ইসলাম তার বিখ্যাত প্রবন্ধ ‘মন্দির ও মসজিদ’ রচনা করেছিলেন তুলে ধরে মিজানুর রহমান অনুষ্ঠানমঞ্চে প্রবন্ধটি পাঠ করে শোনান।

এর আগে অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট বলেন, "প্রগতিশীল ধারা ও দ্রোহের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই আমাদের এই আয়োজন।"

অনুষ্ঠানে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে তার রচিত ‘পুরনো ধাঁধা’ ছড়াটির সঙ্গীত ও আবৃত্তি রূপ পরিবেশিত হয়।

এছাড়া নজরুল-রবীন্দ্র-সুকান্তকে স্মরণ করে তাদের কবিতা থেকে আবৃত্তি পরিবেশনা করা হয়।

একক আবৃত্তিতে ইকবাল খোরশেদ আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’, মাহফুজা মিরা পড়ে শোনান কাজী নজরুল ইসলামের ‘জাতের নামে বদজাতি সব’ এবং সাফিয়া খন্দকার রেখার কণ্ঠে উঠে আসে সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘আমরা এসেছি’ কবিতা। 

সাংস্কৃতিক পর্বে গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদভুক্ত বিভিন্ন দল নজরুলের চেতনার গান, সুকান্তের দ্রোহের গান ও রবীন্দ্রনাথের স্বদেশ পর্যায়ের গান দলীয়ভাবে পরিবেশন করে।

সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেয় ঋষিজ, ক্রান্তি, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, রংধনু, বহ্নিশিখা, আনন্দন, সপ্তরেখা, সমস্বর, মিরপুর সাংস্কৃতিক একাডেমি, পদ্মশ্রী, ভিন্নধারা ও সুরধ্বনী সংগীত দল। 

এছাড়া সুর সাগর ললিতকলা একাডেমি, পঞ্চভাস্কর ও পদাতিক সঙ্গীত সংসদ ‘শতকণ্ঠে’ দলীয় সংগীত পরিবেশনে অংশ নেয়।