চট্টগ্রামে ভোটের মাঠে কোন প্রতীকে প্রার্থী কারা
নির্বাচন কমিশন চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বাতিল করেছে।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মোট প্রার্থীর দাঁড়াল ১১১ জন।
তাদের মধ্যে ১৫টি আসনে বিএনপি ও ১৪টি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জামায়াত ইসলামী দুইটি আসন তাদের জোটের শরিক দলকে ছেড়ে দিয়েছে।
জামায়াতের প্রার্থীর অভিযোগে চট্টগ্রামের একটি আসনের বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।
জামায়াত জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিকে চট্টগ্রাম-৮ আসনটি ছেড়ে দেওয়ার আলোচনা শোনা গেলেও প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন দুই দলের প্রার্থীদের কেউই তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি।
তবে বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলীয় সিদ্ধান্তে এনসিপি প্রার্থীর সমর্থনে জামায়াতের প্রার্থী আবু নাছেরের সরে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন এ আসনে তাদের নির্বাচনি সমন্বয়ক ও মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী।
তবে এখন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও ব্যালটে এই প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকবে।
মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। ২৯৮টি সংসদীয় আসনে ১৯৭২ প্রার্থী ভোটে লড়বেন। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত ২৭ জানুয়রি। ভোটগ্রহণ হবে একই দিন ১২ ফেব্রুয়ারি। সে দিন একইসঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট হবে।
নির্বাচন কমিশনের জারি করা প্রতীক বরাদ্দ সংক্রান্ত আইন-বিধি পরিপত্রে নিবন্ধিত ৫৯টি দলের প্রতীকসহ তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। দলের সংরক্ষিত প্রতীকের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য রয়েছে ৫৬টি প্রতীক।
বুধবার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার শুরু হবে আনুষ্ঠানিক ভোটের প্রচার, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী দলীয় প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোট করবেন আলাদা প্রতীকে।
চট্টগ্রামে ১৬টি আসনে ১১১ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ প্রার্থী স্বতন্ত্র নির্বাচন করবেন। সর্বোচ্চ স্বতন্ত্র প্রার্থী দুইজন করে আছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম- ১৪ (চন্দনাইশ) আসনে। চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ), চট্টগ্রাম-৫ (হাটাহাজারী ও নগরীর ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড), চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-ডবলমুরিং-হালিশহর), চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা-সদরঘাট), চট্টগ্রাম- ১২ (পটিয়া) ও চট্টগ্রাম- ১৬ (বাঁশখালী) আসনে একজন করে স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে আছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে সাতজন পেয়েছেন ফুটবল প্রতীক, অপর তিনজনের একজন মোটর সাইকেল, একজন হরিণ এবং একজন সূর্যমুখ ফুল প্রতীক পেয়েছেন।
কোন আসনে কারা প্রার্থী
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই): ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিন, দাড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র এ কে এম আবু ইউছুপ (তারা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী (হাতপাখা), ইনসানিয়াত বিপ্লবের রেজাউল করিম (আপেল), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী (পাঞ্জা), জাতীয় পার্টির সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন (লাঙ্গল)।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি): এ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছিল সরোয়ার আলমগীরকে। তার মনোনয়নপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল করেছিলেন একই আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন। নির্বাচন কমিশন আপিল গ্রহণ করায় বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
এ আসনে বর্তমানে জামায়াতের প্রাথী ছাড়া জনতার দলের মোহাম্মদ গোলাম নওশের আলী (কলম), ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ জুলফিকার আলী মান্নান (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান (ট্রাক), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি- বিএসপির শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমেদ (একতারা), দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ কবির (ফুটবল) ও জিন্নাত আকতার (হরিণ)।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ উপজেলা): জামায়াতের মুহাম্মদ আলাউদ্দিন, বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশা, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলা (ফুটবল)।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড): বিএনপির আসলাম চৌধুরী, জামায়াতের মো. আনোয়ার ছিদ্দিক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি’র মো. মছিউদদৌলা (কাস্তে), গণঅধিকার পরিষদের এটিএম পারভেজ, গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম (মাথাল), নেজামে ইসলামী পার্টির মো. জাকারিয়া খালেদ (বই), ইসলামী আন্দোলনের দিদারুল মাওলা, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপির শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, ইসলামী ফ্রন্টের সিরাজুদ্দৌলা (মোমবাতি)।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও সিটির ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড) বিএনপির মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের মতিউল্লাহ নূরী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (চেয়ার), লেবার পার্টির মো. আলাউদ্দিন (আনারস), খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দিন (রিক্সা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদ (ফুটবল)।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান): এ আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতের মো. শাহাজাহান মঞ্জু, গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দীন তালুকদার, ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া): জামায়াতের এটিএম রেজাউল করিম, বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী, সিপিবির প্রমোদ বরণ বড়ুয়া, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল্লাহ আল হারুন, ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ ইকবাল হাছান, এবি পার্টির মো. আবদুর রহমান (ঈগল), গণঅধিকার পরিষদের মো. বেলাল উদ্দিন, জাতীয় পার্টির মো. মেহেদী রাসেদ।
চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী উপজেলা ও নগরীর ৩ থেকে ৭ নম্বর ওয়ার্ড): বিএনপির এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতের আবু নাছের, এনসিপির মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ (শাপলা কলি), ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ এমদাদুল হক, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুরুল আলম ও ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী, বাকলিয়া): জেএসডির আবদুল মোমেন চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুস শুক্কুর, জামায়াতের এ কে এম ফজলুল হক, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, বিএনপির আবু সুফিয়ান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন, নাগরিক ঐক্যের নুরুল আবছার মজুমদার (কেটলি), বাসদ (মার্কসবাদী) মো. শফিউদ্দিন কবির (কাঁচি), জনতার দল হায়দার আলী চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ।
চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-ডবলমুরিং-হালিশহর): বিএনপির সাঈদ আল নোমান, জামায়াতের শামসুজ্জামান হেলালী, জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ এমদাদ হোসাইন চৌধুরী, বাসদ (মার্কসবাদী) আসমা আকতার, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. লিয়াকত আলী, ইসলামী আন্দোলনের মাহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম, ইনসানিয়াত বিপ্লবের সাবিনা খাতুন, লেবার পার্টির ওসমান গণি, স্বতস্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আরমান আলী (ফুটবল)।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা-সদরঘাট): বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জামায়াতের মোহাম্মদ শফিউল আলম, জাতীয় পার্টির আবু তাহের, বাসদ (মার্কসবাদী) দীপা মজুমদার, গণফোরামের উজ্জ্বল ভৌমিক (উদীয়মান সূর্য), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবু তাহের, বাসদের মো. নিজামুল হক আল কাদেরী (মই), ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. আজিজ মিয়া, ইসলামী আন্দোলনের নুর উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া (সূর্যমুখী ফুল)।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া): বিএনপির এনামুল হক এনাম, জামায়াতের মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, ইসলামী আন্দোলনের এসএম বেলাল নূর, ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু, জাতীয় পার্টির ফরিদ আহম্মদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ আবু তালেব হেলালী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন (ফুটবল)।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ার, কর্ণফুলী উপজেলা): জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী, ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান, জামায়াতের মাহমুদুল হাসান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মু. রেজাউল মোস্তফা, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের মোহাম্মদ এমরান (সিংহ), গণঅধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমান চৌং, বিএনপির সরোয়ার জামাল নিজাম।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ উপজেলা ও সাতাকানিয়া আংশিক): বিএনপির জসীম উদ্দীন আহমেদ, ইনসানিয়াত বিপ্লবের এইচএম ইলিয়াছ, এলডিপির ওমর ফারুক, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ বাদশা মিয়া, ইসলামী ফ্রন্টের মো. সোলাইমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী (ফুটবল)। তিনি দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম রাহী (মোটর সাইকেল) দক্ষিণ জেলা শাখা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক।
এ আসনে জামায়াতের জোটভুক্ত এলডিপি প্রার্থীর কারণে মনোনয়ানপত্র জমা দেননি জামায়াতের প্রার্থী।
চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া উপজেলা ও সাতকানিয়া আংশিক): বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীন, ইসলামী আন্দোলনের শরীফুল আলম চৌধুরী ও জামায়াতের শাহজাহান চৌধুরী।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী): বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী, জামায়াতের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, ইসলামিক ফ্রন্টের আবদুল মালেক, মুসলিম লীগের এহছানুল হক (হারিকেন), গণঅধিকার পরিষদের মো, আরিফুল হক, ইসলামী আন্দোলনের হাফেজ রুহুল্লাহ।
এ আসনে স্বতন্ত্র প্রাথী মোহাম্মদ লেয়াকত আলী (ফুটবল) দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তিনি।
পুরনো খবর:
