Published : 14 Feb 2026, 10:11 PM
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় ও কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার রাতে উপজেলার পাটিখালঘাটা এলাকায় এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে।
কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাছের মোহাম্মদ রায়হান বলেন, শনিবার দুপুরে জামায়াতের কর্মী জহিরুল ইসলাম দুলাল মামলা করেছেন।
মামলায় পাটিখালঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান কালামসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ মামলায় পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ফুয়াদ জমাদ্দার এবং ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা জনি হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একদল নেতাকর্মী পাটিখালঘাটা গ্রামের জামায়াতের সমর্থক হারুন অর রশিদের বাড়ি এবং তার ভাই মরিচবুনিয়া গ্রামের কামাল জমাদ্দারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
হামলাকারীরা হারুন অর রশিদের খড়ের গাদা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। হামলায় কামাল জমাদ্দারের স্ত্রী রানু বেগম (৫৬), মেয়ে সাবিনা বেগম (৩০) আহত হন।
মামলায় বলা হয়, এ সময় একই ইউনিয়নের জামায়াত সমর্থক মোস্তফা মিয়া, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রিপনের বাড়িতে ভাঙচুর ও হামলা চালানো হয়। পাটিখালঘাটা বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী জামায়াত সমর্থক দুলালের দোকান এবং আবদুর রবের চায়ের দোকানেও হামলা চালায় বিএনপির কর্মীরা। পরে পাটিখালঘাটা ইউনিয়ন জামায়াত কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এ ঘটনায় ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল ফেইসবুকে এক ভিডিও বার্তায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যাদের কারণে যেসব কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে কম ভোট পেয়েছেন, তাদের ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কাঁঠালিয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এমনকি তাদের দলীয়ভাবে বহিষ্কার করা হবে।
কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাছের মোহাম্মদ রায়হান বলেন, “মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার দুইজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”