Published : 16 Feb 2026, 08:23 PM
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জাসদ।
সোমবার এক বিবৃতিতে ওই শপথকে ‘সংবিধান বহির্ভূত’ ও ‘অতিরিক্ত’ অভিহিত করে এ আহ্বান জানায় দলটি।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে বৃহস্পতিবার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোটও হয়। তাতে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় সনদের সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তাচ্ছে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ওপর।
এই পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যরাই। সে কারণে এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি মঙ্গলবার তাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও আলাদাভাবে শপথ নিতে হবে।
এই শপথকে ‘অসাংবিধানিক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, ”দেশবাসীর সঙ্গে আমরাও গভীর আগ্রহের সঙ্গে আগামীকাল জাতীয় সংসদের সদ্য নির্বাচিত সদস্যদের শপথ ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথের জন্য প্রতীক্ষা করছি। কিন্তু গণমাধ্যমে সংসদ সদস্যদের আরেকটি অতিরিক্ত শপথের খবরে বিচলিত ও উদ্বিগ্ন বোধ করছি।
“একটি অসাংবিধানিক আদেশের বলে গণভোটে এ ধরনের শপথ, সময়সীমা বেঁধে দেওয়া ইত্যাদি জায়েজ করার বিরুদ্ধে আমরা শুরু থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। আগামী সংসদে রাষ্ট্রপতির আদেশ গৃহীত হওয়ার আগে এ ধরনের অতিরিক্ত শপথ বৈধ হবে না। আমরা জাতীয় সংসদের সব সদস্যকে অতিরিক্ত শপথ গ্রহণ না করার জন্য আকুল আহ্বান জানাচ্ছি।”
বিবৃতিতে বাংলাদেশ জাসদের দুই শীর্ষ নেতা বলেন, “আমরা খুবই উদ্বেগ ও বিরক্তির সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, একটি মহল গৌরবময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নামে তাদের নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সংসদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে সাংবিধানিক সংকট তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে। যা মূলত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক সংস্কারকে ব্যর্থ করার প্রয়াস।
“জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনায় যে সমস্ত বিষয়ে ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছিল, আগামী সংসদ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেগুলো অনুমোদন করবে বলে আমরা আশা করছি। যেসব প্রশ্নে ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো জাতীয় সংসদে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ রয়েছে।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট তথা শরীক সংগঠনসমূহ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় যেসব বিষয়ে ঐকমত্য ও ভিন্নমত প্রকাশ করেছে, সেগুলো সে অনুযায়ী বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিকভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
”আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে জুলাই শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সে লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক সংস্কারে জাতীয় সংসদের সামনে বাধা সৃষ্টির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির গণভোট আদেশ অনুমোদন হওয়া ছাড়া সংসদ সদস্যদের অতিরিক্ত আরেকটি শপথ না নেওয়ার জন্য আবারও আহ্বান জানাচ্ছি।”