Published : 19 Jun 2013, 05:06 AM
পার্বত্য বাঙালি নাগরিক পরিষদ ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের ডাকে মঙ্গলবার সকাল থেকে টানা ৭২ ঘণ্টার এই হরতাল শুরু হয়েছে।
হরতালের দ্বিতীয় দিন বুধবার সকাল থেকে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে দূর পাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে সারা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে জেলাগুলো।
এর আগে মন্ত্রিসভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন (সংশোধন) আইন অনুমোদনের প্রতিবাদে গত ৯ জুন থেকে তিন পার্বত্য জেলায় ৭২ ঘণ্টা হরতাল পালন করে ছয়টি সংগঠন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, হরতাল সমর্থকরা বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি শহরের দুটি এলাকায় টায়ারে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করে। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার শেখ মো. মিজানুর রহমান বলেন, যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান, জেলা শহরে বিচ্ছিন্ন পিকেটিংয়ের মধ্য দিয়ে সকাল থেকে হরতাল চলছে। হরতালে শহরের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে দোকানপাটও।
জেলা সদরের রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাট থেকেও কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি।
বিশৃঙ্খলা এড়াতে শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, সকাল থেকে দূরপাল্লার বাসের কাউন্টারগুলো বন্ধ রয়েছে।
তবে বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে দোকানপাট খোলা এবং শহরের ভেতরে যান চলাচলও মোটামুটি স্বাভাবিক।
খোলা রয়েছে সরকারি-বেসরকারি অফিসও।
আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বান্দরবান থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, এখন পর্যন্ত শহরের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, হরতাল চলাকালে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে খাগড়াছড়ির পানছড়িতে হরতাল সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষে পানছড়ি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আল আমীনসহ অন্তত চার জন আহত হয়েছে।
আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পানছড়ি থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, এই সংঘর্ষের পর এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে।