Published : 24 May 2013, 05:44 PM
গত বুধবার উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বাড়াদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার সকালে তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে মেয়েটির মা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বুধবার বিকেলে একই গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে রাকিবুল ইসলাম (১৯) তার মেয়েকে পাশের একটি ক্ষেতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। মেয়েটির চিৎকার শুনে এলাকাবাসী এসে তাকে উদ্ধার করে।
“বিষয়টি জানাজানি হলে প্রভাবশালী ধর্ষক পরিবার এই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথা বলে দুই দিন আমাদের থানায় বা হাসপাতালে আসতে দেয়নি।”
এ বিষয়ে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নাজমা খাতুন বলেন, “প্রাথমিকভাবে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার শরীরে ধর্ষণের আলামতও রয়েছে।”
মেয়েটির বাবা একজন দিনমজুর।
তিনি জানান, এ ঘটনার পর কয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্বপনসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা থানায় ও হাসপাতালে মেয়েটিকে নিয়ে আসতে বাধা দেয়। এরপর দুই দফায় গ্রামে সালিস বসে, যেখানে ঘটনা চেপে যেতে ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দেয়া হয়। সালিস না মানলে প্রভাবশালীরা তাদের হুমকি-ধমকি দেয়।
সকালে প্রভাবশালীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে অসুস্থ্ মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন বলে জানান তিনি।
এদিকে, দুপুরে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন এবং র্যা ব ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ধর্ষিতাকে দেখতে হাসপাতালে যান।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমি মেয়েটিকে দেখেছি। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষককে আটক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।”
কুষ্টিয়া সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার লিমন রায় বলেন, এ ঘটনায় জড়িতকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।