Published : 15 May 2013, 05:20 AM
উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল জেলা এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো এই সংকেতের আওতায় থাকবে।
এছাড়া মংলা বন্দরকে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
এই সংকেত উপকূলীয় জেলা পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতেও প্রযোজ্য হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপ পরিচালক শাসুদ্দিন আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ঘূর্ণিঝড় মহাসেন আরো উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বৃহস্পতিবার ভোর নাগাদ চট্টগ্রামের কাছ দিয়ে খেপুপাড়া-টেকনাফ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার রাত থেকে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
মহাসেনের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমের সময় উপকূলীয় জেলাগুলোতে ঘন্টায় ৭০-৯০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়ার সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ০৯ টায় চট্টগ্রাম থেকে ৮৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিম, কক্সবাজার থেকে ৮১৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিম এবং মংলা থেকে ৭৬০ কিলেমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল মহাসেন।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা, ট্রলার এবং সমুদ্রগামী জাহাজকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যšত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
মহাসেনের তাণ্ডবে ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কায় সাত জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিন হাজার মানুষ হয়েছে ঘরছাড়া। প্রবল ঝড়ো হাওয়ার মধ্যে মিয়ানমার উপকূলে নৌকাডুবে শতাধিক লোকের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঝড় মোকাবেলায় দেশের উপকূলের জেলাগুলোতে ইতোমধ্যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের ছুটি।
ঝড় এগিয়ে আসায় বুধবার সকালেই চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠা-নামা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিকাল ৪টা থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ওঠানামাও বন্ধ হয়ে যাবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম আবদুল কাদের জানান, ঝড় মোকাবেলার সব প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। সতর্কতা হিসেবে নগরীর নিচু এলাকার জনসাধারণকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের উদ্যোগে মাইকিং চলছে।
জনগণকে সতর্ক করতে মাইকিং করা হচ্ছে কক্সবাজারেও। জেলার সহকারী পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার বলেন, উপকূলের সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
সকাল ১১টায় উপকূল এলাকার সব বিদ্যালয়ে ছুটি দেয়া হয়েছে। এসব বিদ্যালয়কে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।