২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

বার্লিনে বামপন্থিদের জয়, উত্তরপূর্বাঞ্চলে উড়ল চরম ডানপন্থিদের পতাকা

একের পর এক রাজ্যে চরম ডানপন্থিদের উত্থান জার্মানি ছাড়িয়ে পুরো ইউরোপজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বার্লিনে বামপন্থিদের জয়, উত্তরপূর্বাঞ্চলে উড়ল চরম ডানপন্থিদের পতাকা

বার্লিনে এএফডিকে পরাজিত করে ঐতিহাসিক সাফল্য পাওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ডি লিংকের প্রধান প্রার্থী ও তুর্কি অভিবাসীর কন্যা এলিফ এরাল্প। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 21 Sep 2026, 04:24 PM

Updated : 21 Sep 2026, 04:24 PM

জার্মানির রাজধানী বার্লিনের রাজ্য নির্বাচনে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎসের ক্ষমতাসীন রক্ষণশীলদের হারিয়ে শীর্ষ স্থান অর্জন করেছে চরম বামপন্থি দল ‘ডি লিংকে’ (দ্য লেফট) ।

অন্যদিকে দেশটির উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেক্লেনবুর্গ-ফোর্পোমার্নে বড় জয় পেয়েছে চরম ডানপন্থি দল ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ (এএফডি) ।

সোমবার নির্বাচনের পর কর্তৃপক্ষের ঘোষিত চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী বার্লিনে ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষে রয়েছে ‘ডি লিংকে’।

চ্যান্সেলর ম্যার্ৎসের রক্ষণশীল দল ‘ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন’ (সিডিইউ) ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

শীর্ষে থাকলেও ১৯৯০ সালে জার্মানির পুনরেকত্রীকরণের পর এবারই প্রথম মেয়রের পদ ডি লিংকেকে অন্য দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করতে হবে।

বার্লিনে ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে চরম ডানপন্থি এএফডি, আর গ্রিনস পার্টি পেয়েছে ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট।

তবে চ্যান্সেলরের জোটসঙ্গী মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস (এসপিডি) মাত্র ১২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়ে পঞ্চম স্থানে নেমে এসেছে, যা বার্লিনের রাজ্য নির্বাচনে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ফল।

অন্যদিকে উত্তরপূর্বের রাজ্য মেক্লেনবুর্গ-ফোর্পোমার্নে ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়ে স্পষ্ট জয় নিশ্চিত করেছে চরম ডানপন্থি এএফডি।

মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এটি তাদের দ্বিতীয় রাজ্য জয়। এই রাজ্যে ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে এসপিডি।

মেক্লেনবুর্গ-ফোর্পোমার্নে চ্যান্সেলর ম্যার্ৎসের দল সিডিইউ তাদের ৮১ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বিপর্যয়কর ফলের মুখে পড়েছে।

রাজ্যটিতে মূল লড়াই ছিল এসপিডির জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী মানুয়েলা শভেসিগ এবং এএফডির প্রধান প্রার্থী সাবেক রেডিও উপস্থাপক লেইফ-এরিক হোলমের মধ্যে।

এই রাজ্যে মাত্র ৪ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পাওয়ায় পার্লামেন্টে আসন পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশের কোটাই পার হতে পারেনি সিডিইউ।

মেক্লেনবুর্গ-ফোর্পোমার্নে এই ফলাফলকে ‘বিপর্যয়’ বলে বর্ণনা করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ম্যার্ৎস। তবে দলীয় সংকটের মধ্যে পদত্যাগের চাপ ও গুঞ্জন প্রত্যাখ্যান করে ৭০ বছর বয়সী এই নেতা জানান, তিনি পদে বহাল থাকছেন। বার্লিনে দলের সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের ম্যার্ৎস বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দৃঢ়তা ও ধৈর্য প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সংস্কার আনতেই হবে এবং দেশকে এগিয়ে নিতে আমি এই দায়িত্ব বহন করে যাব।”

ক্ষমতায় আসার মাত্র ১৬ মাসের মাথায় জনপ্রিয়তার সূচকে ব্যাপক ধসের মুখে পড়েছেন ম্যার্ৎস, সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী তার জনসমর্থন কমে মাত্র ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

ফলাফল প্রকাশের পর এএফডির জাতীয় সহ-সভাপতি টিনো ক্রুপাল্লা চ্যান্সেলরের তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, “ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করার বদলে তিনি আগে যেভাবে চলেছে সেভাবেই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুর্বল একটি বিবৃতি।”

বার্লিনে এএফডিকে পরাজিত করে ঐতিহাসিক সাফল্য পাওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ডি লিংকের প্রধান প্রার্থী ও তুর্কি অভিবাসীর কন্যা এলিফ এরাল্প।

বিজয়ের পর তিনি বলেন, “আমাদের এই শহরে ঘৃণার বিরুদ্ধে ভালোবাসা ও সুবিচারের জয় হয়েছে।”

আল জাজিরার সাংবাদিক ডমিনিক কেইন মেক্লেনবুর্গ থেকে জানান, “ম্যার্ৎসের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ফল আসলেই বিপর্যয়ের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি সিডিইউর সবচেয়ে বাজে ফল। তবে পশ্চিম জার্মানিতে যেখানে বেশি মানুষের বাস, সেখানে এএফডি এখনও ততটা শক্তিশালী নয়।”

দুই সপ্তাহ আগে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে এএফডির ঐতিহাসিক জয় জার্মান রাজনীতিতে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছিল।

আগামী ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে একের পর এক রাজ্যে চরম ডানপন্থিদের এই উত্থান জার্মানি ছাড়িয়ে পুরো ইউরোপজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ভিয়েনার মডিউল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ও ডানপন্থি আন্দোলন বিশেষজ্ঞ ফ্লোরিয়ান হার্টলেব আল জাজিরাকে বলেন, “এএফডিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে অন্য দলগুলো সবকিছু করলেও তা কাজে আসেনি। অভিবাসন, অর্থনীতি ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষই এএফডির এই উত্থানের মূল কারণ।”