মদিনার বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানের
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মসজিদে নববিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা ‘মারাত্মক উসকানি’।
সৌদি আরবের মদিনা শহরের তাইবা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রে হুতি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। এ হামলাকে ‘মারাত্মক উসকানি’ বলে অভিহিত করেছে তারা।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মসজিদে নববিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা ‘বেপরোয়া কার্যকলাপ’।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যে কোনো পরিস্থিতিতে পবিত্র দুই মসজিদের পবিত্রতা এবং ইবাদতকারী ও তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার প্রতি অবশ্যই সম্মান দেখাতে হবে।”
ইসলামাবাদ ‘অবিলম্বে ও শর্তহীনভাবে এ ধরনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে’ বলে সতর্ক করেছে।
সৌদি আরবের প্রতি তাদের ‘অটল সংহতি’ পুনর্ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। পাশাপাশি সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার প্রতি ‘পূর্ণ সমর্থন’ জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক ৭ অগাস্ট ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে, যা পরবর্তীতে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ নামে পুনর্নামকরণ করা হয়। এই ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা অনুযায়ী, জোটভুক্ত যে কোনও এক দেশের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ বলে গণ্য হওয়ার কথা রয়েছে।
শিয়া হুতিরা ইয়েমেনের সবচেয়ে জনবহুল অংশগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। তারা জুলাইতে রিয়াদের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণার পর থেকে সৌদি আরবে হামলা চালিয়ে আসছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে বৃহত্তর যুদ্ধের সূচনা ঘটিয়েছিল এটি তার একটি নতুন ফ্রন্ট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
হামলায় সৌদি আরবের শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচলকে লক্ষ্যস্থল করছে হুতিরা। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি হুমকির মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় লোহিত সাগরের বিকল্প রুট দিয়ে তেল রপ্তানি করে আসছিল রিয়াদ। হুতিদের কারণে এই বিকল্প রুটও হুমকির মুখে পড়ায় দেশটির তেল রপ্তানি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
