২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭ আশ্বিন ১৪৩৩

আগামী বছরের মধ্যে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের নিরস্ত্রীকরণ করবে ইরাক

ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখে ইরাক সরকার এই নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনার কথা জানাল।

আগামী বছরের মধ্যে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের নিরস্ত্রীকরণ করবে ইরাক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বে তেহরান এসব মিত্র মিলিশিয়ার ওপর নির্ভর করে থাকে। ছবি: আটলান্টিক কাউন্সিল

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 22 Sep 2026, 04:53 PM

Updated : 22 Sep 2026, 04:53 PM

ইরাকজুড়ে প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনার অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাগদাদ।

সোমবার নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি এ কথা জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে অবস্থানরত আল-জাইদি টাইমসকে জানান, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে ৯০ দিন সব ধরনের হামলা থেকে বিরত থাকবে মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো। একই সময়ে মার্কিন বাহিনীও তাদের ওপর হামলা চালাবে না, এমন আশ্বাসও দেওয়া হবে।

এরপর গোষ্ঠীগুলো তাদের অস্ত্র জমা দেওয়া শুরু করবে আর ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

এক প্রতিবেদনে আরব নিউজ জানিয়েছে, মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এই সময়সীমা ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছে।

এর আগে চলতি বছর আল-জাইদি বলেছিলেন, ইরাক থেকে সর্বশেষ মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে নির্ধারিত তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই মিলিশিয়াদের নিরস্ত্র করা হবে।

কিন্তু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সেই সময়সীমা প্রত্যাখ্যান করায় ইরাকি কর্মকর্তারা আগের বক্তব্য থেকে সরে এসে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, মূলত ৩০ সেপ্টেম্বর নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু করার দিন।

পরবর্তীতে মিলিশিয়াদের সঙ্গে শর্তাবলি নিয়ে আলোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করে সরকার। ইরাকি প্রধানমন্ত্রী জানান, দুই পক্ষের সম্মতিক্রমে চূড়ান্ত সময়সূচি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ঘোষণা করা হতে পারে।

নিজ পরিকল্পনা সম্পর্কে টাইমসকে আল-জাইদি বলেন, “এটি কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং বাধ্যবাধকতা। এর আগে যারা এটি নিয়ে কথা বলেছিলেন, তারা পিছু হটেছিলেন। তারা চাপ কিংবা অন্য উদ্বেগের কাছে নতি স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু আমার কাছে দুর্নীতি রোধ এবং এই বিষয়টি সম্মানের প্রশ্ন।”

তিনি আরও বলেন, “একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য প্রথমে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।”

ইরানঘেঁষা যেসব সশস্ত্র গোষ্ঠী ইরাকে ব্যাপক সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখছে, তাদের দমনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বাগদাদকে চাপ দিয়ে আসছে। সেই চাপের মুখেই ইরাক সরকারের এই নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনা সামনে এল।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বের অংশ হিসেবে তেহরান এসব মিত্র মিলিশিয়ার ওপর নির্ভর করে থাকে। এসব মিলিশিয়া গোষ্ঠী পার্শ্ববর্তী কুয়েত ও জর্ডানের পাশাপাশি ইরাকের জ্বালানি কেন্দ্র এবং বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে বারবার হামলা চালিয়েছে।

চলতি মাসে সৌদি আরব জানায়, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত বেশ কিছু ড্রোন হামলায় তাদের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ৪ শতাংশ পূরণ করে। এই হামলার পর গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় রিয়াদ।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এবারই প্রথম নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন আল-জাইদি।

গত সোমবার জাতিসংঘের সম্মেলনের ফাঁকে নিউ ইয়র্কে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এক বৈঠকে অংশ নেন তিনি।