০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাম্পের নতুন প্রেস সহকারীর বিতর্কিত ছবি নিয়ে সমালোচনা, হোয়াইট হাউজের সাফাই

রাইফেল হাতে ‘ফা** জো বাইডেন’ টি-শার্ট পরে আলোচনায় আসা সাংবাদিক বেনি রে হারমনি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনে নতুন নিয়োগ পেয়েছেন।

ট্রাম্পের নতুন প্রেস সহকারীর বিতর্কিত ছবি নিয়ে সমালোচনা, হোয়াইট হাউজের সাফাই

ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Oct 2026, 07:03 PM

Updated : 05 Oct 2026, 07:03 PM

বেনি রে হারমনিকে হোয়াইট হাউজের সহকারী প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এরপর রাইফেল হাতে 'ফাক জো বাইডেন' লেখা টি-শার্ট পরা হারমনির একটি পুরোনো ছবি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হলেও হোয়াইট হাউজ তার পক্ষে সাফাই গেয়েছে।

২৪ বছর বয়সী হারমনি ডানপন্থি গণমাধ্যম ‘রিয়েল আমেরিকা’স ভয়েস’-এর হোয়াইট হাউজ করসপনডেন্ট থেকে সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের সহকারী প্রেস সচিব ও মুখপাত্র হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এরপরই তার ২০২১ সালের ওই বিতর্কিত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

বড়দিনের সাজসজ্জার সামনে বাইডেনবিরোধী ওই 'ফাক জো বাইডেন' লেখা টি-শার্ট পরে এক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে হাতে রাইফেল নিয়ে হারমনির তোলা ছবিটি ২০২১ সালের নভেম্বরে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিলেন উগ্র ডানপন্থি রিপাবলিকান নেতা জেরোম বেল।

২০২২ সালে কংগ্রেস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। পোস্টের ক্যাপশনে হারমনিকে নিজের প্রচার শিবিরের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে হারমনি নিজেই ছবিটির সত্যতা পরোক্ষভাবে নিশ্চিত করেন। পরের দিন তিনি একই পোশাক পরে একই স্থানে আরেকটি ছবি দিয়ে পোস্টটির জবাব দেন। ছবিতে এক বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে এক ব্যবহারকারী কটাক্ষ করে 'মেয়ে নাকি ডেট?' জানতে চাইলে হারমনি এক শব্দে জবাব দিয়েছিলেন: 'আংকেল'।

তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে ন্যাসকার রেসে ট্রাম্প সমর্থকদের দেওয়া 'ফাক জো বাইডেন' স্লোগানটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।

ছবিটি নিয়ে হারমনি নিজে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে তার নিয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন হোয়াইট হাউজের ডেপুটি প্রেস সচিব অ্যানা কেলি।

পুরোনো ওই ছবি নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, বেনি রে হারমনি ‘মাগা’ আন্দোলনের একজন বিশ্বস্ত কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করেছেন। ট্রাম্পের যোগাযোগ দলে তিনি একজন অত্যন্ত চমৎকার ও যোগ্য সংযোজন হবেন। আমরা তাকে আমাদের দলে স্বাগত জানাতে উন্মুখ হয়ে আছি!'

লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, হারমনি এর আগে ডানপন্থি সংগঠন ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’-এর উপস্থাপক জ্যাক পোসোবিয়েকের প্রযোজক এবং রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য পল গোসার ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য ম্যাট গেটজের প্রেস সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।

হারমনি এমন এক সময়ে হোয়াইট হাউজের প্রেস টিমে যোগ দিলেন, যখন প্রশাসন চরম একপেশে গণমাধ্যম নীতি নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সমালোচনামূলক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রবেশাধিকার সীমিত বা অস্বীকার করে ট্রাম্পকে সবসময় স্তুতি গাওয়া সাংবাদিকদের দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।

নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগে সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাউ-কে হোয়াইট হাউজ থেকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। তার উপদেষ্টারা এখন বেছে বেছে সেইসব সংবাদমাধ্যমকে প্রশ্ন করার সুযোগ দিচ্ছেন, যারা প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে সমর্থন করে।

গত মাসে প্রেসিডেন্সিয়াল বিমান 'এয়ার ফোর্স ওয়ান'-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্পের বাঁ হাতে একগুচ্ছ কাগজ দেখা যায়। সে সময় হারমনি ট্রাম্পকে বন্ধুভাবাপন্ন সব প্রশ্ন করেন, যা রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য সাজানো ছিল বলেইু প্রতীয়মান হয়েছে।

টিএমজেড জানায়, বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) ছবিতে দেখা গেছে, ট্রাম্পের হাতে থাকা প্রথম কাগজের ওপরে হারমনির নাম লেখা ছিল—যা থেকে ধারণা করা হয় যে, প্রশ্ন নেওয়ার সময় ট্রাম্প আসলে হারমনির জীবনবৃত্তান্ত হাতে ধরে ছিলেন।