‘ভেড়া আর নেকড়ের গল্প’ পড়ানোর কারণে হংকংয়ে ৫ জনের কারাদণ্ড

ঔপনিবেশিক আমলের রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের অধীনে তাদের বিচার হয়। হংকংয়ে বর্তমানে ওই আইনের পরিবর্তে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ব্যবহার বেশি।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Sept 2022, 01:30 PM
Updated : 11 Sept 2022, 01:30 PM

ভেড়ার পাল প্রাণপণে চেষ্টা করছে নেকড়েদের তাদের গ্রাম থেকে দূরে রাখাতে...। শিশুতোষ বইয়ের আপাত নিরীহ এই গল্পটি শেখানোর কারণে হংকংয়ে পাঁচ স্পিচ থেরাপিস্টের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ অভিযোগ তুলে প্রত্যেককে ১৯ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

হংকংয়ের একটি আদালত গত বুধবার তাদের দোষীসাব্যস্ত করে এবং শনিবার সাজা ঘোষণা করা হয় বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

হংকং কর্তৃপক্ষ বলেছেন, ওই বইয়ে ভেড়া হিসেবে হংকংকে এবং নেকড়ে বলতে চীন সরকারকে বোঝানো হয়েছে।

আর বইয়ের লেখকরা বলছেন, গল্পে ‘জনগণের দৃষ্টিকোণ থেকে ইতিহাসের’ ধারাবিবরণী দেয়া হয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, চীন সমর্থিত হংকং প্রশাসনের বেছে নেওয়া বিচারক লেখকদের ওই ব্যাখ্যাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। বরং তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, ওই গল্প শিশুদের ‘মগজধোলাইয়ের একটি প্রক্রিয়া’।

সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকংকে ১৯৯৭ সালে চীনের হাতে তুলে দেয় যুক্তরাজ্য। কিন্তু শর্ত ছিল, হংকং চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হয়ে থাকবে। অর্থাৎ, সংবেদনশীল কিছু অধিদপ্তর ছাড়া হংকং স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে। যেটা ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নামে পরিচিত।

বিবিসি জানায়, ওই পাঁচ স্পিচ থেরাপিস্টকে এক বছরের বেশি সময় আগে গ্রেপ্তার করা হয়। বিচার চলাকালীন পুরো সময়ে তারা কারাগারে আছেন। তাদের বয়স ২৫ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে।

তাদের একজন আইনজীবী বিবিসিকে বলেন, তারা এক মাসের ভেতরই মুক্তি পেতে পারেন। কারণ, তাদের যে কয় মাসের সাজা দেয়া হয়েছে তারা তা প্রায় ভোগ করে ফেলেছেন।

সাজাপ্রাপ্ত পাঁচজন কার্টুনের ই-বুক বানান। কার্টুনের মাধ্যমে তারা শিশুদের কাছে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের ব্যাখ্যা করতে চেয়েছিলেন বলে দাবি হংকং প্রশাসনের।

তিনটি বইয়ের একটিতে দেখান হয়, ভেড়াদের একটি গ্রামের দখল নিতে চাইছে একদল নেকড়ে। তাদের আটকাতে এবং নিজেদের গ্রামকে দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা করতে ভেড়ার দল লড়াই করছে।

লেখকদের দাবি, এই গল্পের মাধ্যমে তারা শিশুদের নিয়মতান্ত্রিক বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে বোঝাতে চেয়েছেন।

কিন্তু বিচারপতি কোওক ওয়াই-কেন তার রায়ে বলেন, স্পিচ থেরাপিস্টরা এর মাধ্যমে হংকং এবং পুরো চীন জুড়ে ‘অস্থিতিশীলতার বীজ বপণ করছেন’।

ঔপনিবেশিক আমলের রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের অধীনে তাদের বিচার হয়। হংকংয়ে বর্তমানে ওই আইনের পরিবর্তে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ২০২০ সালে প্রণয়ন করা নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন ব্যবহার বেশি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক