এসআরএফটিআই শিক্ষার্থীদের পাশে নাসিরুদ্দিন শাহ, বললেন ‘বিজেপি মিথ্যাবাদীর দল’
“পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ‘কারচুপিপূর্ণ বিজয়ের’ পর এসআরএফটিআই এর শিক্ষার্থীরাই তাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সর্বশেষ শিকার,” বলেন তিনি।
ভারতে সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (এসআরএফটিআই) সংঘাতের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ।
শনিবার এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেছেন, যারা বিজেপির মতাদর্শ ও নীতি মেনে নেয় না, তাদের ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছে দলটি। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ‘কারচুপিপূর্ণ বিজয়ের’ পর এসআরএফটিআই এর শিক্ষার্থীরাই তাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সর্বশেষ শিকার।
নাসিরুদ্দিন বলেন, “বিজেপি মিথ্যাবাদীর দল। যারা তাদের বিশ্বাস ও নীতি মেনে চলে না, নির্বাচনে ‘কারচুপিপূর্ণ বিজয়ের’ পর এমন প্রতিটি মানুষের ওপর প্রতিশোধ নিতে তারা মরিয়া।
“এই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সর্বশেষ শিকার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী এবং ভবিষ্যৎ চলচ্চিত্র নির্মাতারা। শিক্ষার্থীদের শোকজ নোটিস দেওয়া হয়েছে। নজরদারিতে রাখা হয়েছে, হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি হোস্টেল খালি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।”
ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইন জানিয়েছে, এসআরএফটিআইতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, আরএসএস সংশ্লিষ্ট ভোক্তা সচেতনতামূলক সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত’ এর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরপর ৪ অক্টোবর ক্যাম্পাসে ‘বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’ এর সদস্যদের একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে পুনরায় হাতাহাতি হয়। পুলিশ বাধা দেওয়ার পর কিছু আন্দোলনকারী জোরপূর্বক ইনস্টিটিউটের গেইট খোলার চেষ্টা করে।
এসব সহিংসতার ঘটনায় উপাচার্য সন্তোষ আজমেরার পদত্যাগ দাবি করে গত ১২ অক্টোবর থেকে তার কার্যালয়ের বাইরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এরপর ১৬ অক্টোবর এক নোটিসে ফিল্ম, ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মিডিয়া বিভাগের সমস্ত নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত করে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্যাম্পাস খালি করার নির্দেশও দেওয়া হয় সেখানে।
পূজার ছুটি ২১ অক্টোবর পর্যন্ত হলেও আনন্দবাজার লিখেছে, ছুটির ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। হোস্টেল ও মেস বন্ধ করার নির্দেশও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আন্দোলনের মধ্যে ক্যাম্পাস ছাড়তে নারাজ শিক্ষার্থীরা। শনিবারও তারা কর্মসূচি চালিয়ে যান।
এদিন শিক্ষার্থীরা আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেন। ওই দিন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাধিকার রক্ষা, ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং ছাত্রছাত্রীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবিতে এ কর্মসূচি বলে ছাত্র সংসদ জানিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনেই পাশে দাঁড়িয়েছেন নাসিরুদ্দিন শাহ। এর আগে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনেও সামিল হয়েছিলেন এ অভিনেতা।
অন্যদের এই আন্দোলনে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সব বিবেকবান বা সঠিক চিন্তাধারার নাগরিকদের সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।”
