হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি নেতা জোশুয়া ওংকে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড
বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাতের দায়ে তাকে এই সাজা দিয়েছে হংকং হাই কোর্ট।
হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গণতন্ত্রপন্থি কর্মী জোশুয়া ওংকে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০২০ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন।
বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাতের দায়ে বৃহস্পতিবার তাকে এই সাজা দেয় হংকং হাই কোর্ট।
২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকেই কারাগারে রয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই আন্দোলনকারী। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে তার মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। আগের মেয়াদের সাজা শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাস বাকি থাকতে তার ওপর নতুন এই কারাদণ্ড চাপিয়ে দেওয়া হলো।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক উইলিয়াম ট্যাম বলেন, “শাস্তি অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে আসামির যে পরিকল্পনা ছিল, তার বিরুদ্ধে সমাজের তীব্র ক্ষোভ তুলে ধরা আদালতের দায়িত্ব। আসামির মতো অন্যরা যেভাবে বিদেশি শক্তি বা বহিরাগত পক্ষের সঙ্গে আঁতাত করেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
ওংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিদেশে নির্বাসিত কর্মী নাথান ল ও অন্যান্যদের সঙ্গে যোগসাজশ করেছিলেন। তারা চীন ও হংকং সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক অবরোধ জারির আহ্বান জানান।
চীনের বাইরের বিভিন্ন দেশ, সংস্থা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এই পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন তারা।
গত সেপ্টেম্বরে আদালতে নিজের এই অপরাধ স্বীকার করে নেন ওং। বিচারক ট্যাম জানান, তিনি প্রাথমিকভাবে ১৩ বছরের কারাদণ্ডের কথা ভেবেছিলেন। তবে ওং দোষ স্বীকার করায় এবং সাজা লঘুকরণের নানা যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে তা কমিয়ে ১০ বছর করা হয়েছে।
একসময় হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের প্রধান মুখ ছিলেন জোশুয়া ওং। চীনের মূল ভূখণ্ডে বন্দি প্রত্যর্পণের একটি খসড়া আইন ঘিরে ২০১৯ সালে হংকংয়ে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়।
সেই বিক্ষোভ খুব দ্রুতই বৃহত্তর গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনে রূপ নেয়। বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমে তখন ওং পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে অনুমোদনহীন সরকারবিরোধী সমাবেশের উসকানি ও আয়োজনের অপরাধ স্বীকার করায় ২০২০ সালে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আদালতের এই রায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
হংকংয়ে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট এই অতিরিক্ত সাজার কড়া নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা ওংয়ের অবিলম্বে মুক্তির দাবি করেছে।
রায়ের পরপরই তাইওয়ান বলেছে, হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থিদের ওপর ‘বিরামহীন রাজনৈতিক নিপীড়ন’ চালানো হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই সাজার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ইলেইন পিয়ারসন বলেন, “ভিত্তিহীন অভিযোগে জোশুয়া ওংকে এমন কঠোর সাজা দেওয়া অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও অন্যায়। যে তরুণেরা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন চায়, তারা যেকোনো প্রাণবন্ত সমাজের জন্য সম্পদ। অথচ হংকংয়ের সরকার তাদের জেলে পুরছে।”
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ভিন্নমত দমনে হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা আইন যে একটি নির্মম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে, এই ঘটনা সেটিই আবারও প্রমাণ করল।
