মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত থেকে সরলেন ট্রাম্প
সাবেক মার্কিন আর্মি মেজর নিদাল হাসানকে আগামী ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সরাসরি সম্প্রচারের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে হামলাকারী নিদাল হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সরাসরি ইন্টারনেটে লাইভ সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন।
ট্রাম্প এর আগে নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সরাসরি সম্প্রচারের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এটি আদেও ঘটবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে তিনি এটি দেখবেন না।
ডনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি সম্প্রচার বাতিল করার সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার পর। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, 'অনেক ভাল মনের মানুষ তাকে সরাসরি সম্প্রচারে মারা যেতে দেখতে চান না।”
টাম্প বলেন “আমার মনে হয় সবার সামনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সরাসরি দেখানো উচিত ছিল। তাহলে সারা পৃথিবী দেখতে পেত যে, যুক্তরাষ্ট্র হাসান এবং তার মতো খারাপ সন্ত্রাসীদের কীভাবে শাস্তি দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ফায়ারিং স্কোয়াডে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, তবে এই ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না।'"
নিদাল হাসান ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে নিরস্ত্র ১৩ জন মার্কিন সেনাকে গুলি করে হত্যা করেন এবং আরও ৩২ জনকে আহত করেন। ফায়ারিং স্কোয়াডে তার মৃত্যুদণ্ড হবে ৬০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম সামরিক মৃত্যুদণ্ড।
“ভুক্তভোগীদের পরিবার ইচ্ছা করলে সশরীরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দৃশ্য সরাসরি দেখতে পারবেন। তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে" বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
সাবেক মার্কিন আর্মি মেজর নিদাল হাসানকে আগামী ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের (গুলি করে) মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দিন ধার্য রয়েছে।
ভার্জিনিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা নিদাল হাসান ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটির এক ভিড়ে ঠাসা মেডিকেল ভবনে ১৩ জন নিরস্ত্র সেনাসদস্যকে গুলি করে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন।
২০১৩ সালে সামরিক আদালতে শুনানিকালে নিদাল জানান, আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাত থেকে মুসলিম ও তালেবানদের রক্ষা করতেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিলেন। হামলায় পুলিশের গুলিতে নিদাল নিজেও আহত হন এবং বর্তমানে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে হুইলচেয়ার ব্যবহার করছেন।
২০০৯ সালের ৫ নভেম্বরের সেই হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক ঘাঁটিতে অ-যুদ্ধকালীন সময়ের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ঘটনা। এতে ১৩ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও ৩২ জন সেনাসদস্য আহত হন।
